বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইমিগ্র্যান্ট ভিসা’ বা অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর কূটনৈতিক কর্মকৌশল (Strategy) বের করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এই তথ্য জানিয়েছেন।
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
তথ্য উপদেষ্টা জানান, বিষয়টি নিয়ে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টারা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত কেবল বুধবারই আমাদের হাতে এসেছে। আমরা মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে নিবিড়ভাবে ‘এঙ্গেজ’ (সম্পৃক্ত) হওয়ার পরিকল্পনা করছি, যাতে উদ্ভূত সমস্যা নিরসন করা যায়।”
রিজওয়ানা হাসান আরও উল্লেখ করেন যে, এই সিদ্ধান্তে বিচলিত হওয়ার মতো কিছু নেই, কারণ এটি কেবল বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। মূলত যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum) চান বা সে দেশের সামাজিক পরিষেবা ও সরকারি ভাতার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তাদের ক্ষেত্রেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
স্থগিতাদেশের কারণ ও ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি
রয়টার্স ও এপি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও এই নতুন নির্দেশনা জারি করেছেন। মূলত ‘পাবলিক চার্জ’ (Public Charge) বিধি কঠোর করার অংশ হিসেবেই এই ৭৫টি দেশকে তালিকায় রাখা হয়েছে। মার্কিন করদাতাদের অর্থের অপব্যবহার রোধ এবং অভিবাসীদের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করতেই এই স্থগিতাদেশ বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কারা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে?
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ কেবলমাত্র ইমিগ্র্যান্ট বা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
- অব্যাহতি: পর্যটক (B1/B2), স্বল্পমেয়াদী ব্যবসায়িক ভিসা এবং যারা ইতিমধ্যে ভিসা হাতে পেয়েছেন, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না।
- ২০২৬ বিশ্বকাপ প্রভাব: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ অলিম্পিককে সামনে রেখে পর্যটন বা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার চাহিদা ও প্রসেসিং স্বাভাবিক রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ সরকার ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
















