বেশি ভাড়া না দেওয়ায় মাঝরাস্তায় ৭০ মিনিট অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখল অন্য চালকরা; গত বছরও একই কারণে নবজাতকের মৃত্যুর নজির রয়েছে জেলাটিতে।
নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খুন, বিস্ফোরণ ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা উন্নত হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সিন্ডিকেটের বাধায় প্রাণ হারিয়েছেন জমশেদ আলী ঢালী (৬৫) নামে এক রোগী। অভিযোগ উঠেছে, কম ভাড়ার অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পাঠানোয় দুই দফায় প্রায় ৭০ মিনিট গাড়িটি আটকে রেখেছিলেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
নিহত জমশেদ আলী ঢালী শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
ভাড়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও গতিরোধ
নিহতের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার সকালে জমশেদ আলীকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। হাসপাতাল চত্বরের একটি অ্যাম্বুলেন্স সাড়ে ৬ হাজার টাকা ভাড়া চাইলেও রোগী তোলার পর তারা অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। এতে বাধ্য হয়ে স্বজনরা ৫ হাজার টাকায় অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন।
কম ভাড়ায় রোগী পাঠানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয় সিন্ডিকেট। ঢাকা যাওয়ার পথে গাগ্রীজোড়া এলাকায় সুমন, মানিক, পারভেজ ও সজীবসহ ৭-৮ জন ব্যক্তি অ্যাম্বুলেন্সটির গতিরোধ করেন। সেখানে ৩০ মিনিট গাড়ি আটকে রাখার পর স্থানীয়দের চাপে তারা পথ ছাড়ে। কিন্তু জামতলা এলাকায় পৌঁছালে আবারও ৪০ মিনিট গাড়িটি আটকে রেখে রোগীকে নামিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু
দুই দফায় মোট ৭০ মিনিট দেরি হওয়ায় রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার কারণে আমার নানাকে ঢাকায় নিতে দেরি হয়েছে। আমরা এই খুনি সিন্ডিকেটের বিচার চাই।”
অ্যাম্বুলেন্স চালক সালমান জানান, স্থানীয় সিন্ডিকেট ৭ হাজার টাকা চেয়েছিল, কিন্তু তিনি ৫ হাজার টাকায় রাজি হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে দুই দফায় গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়েছিল।
প্রশাসনের বক্তব্য
শরীয়তপুর জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, “যারা জোর করে গাড়ি আটকেছে তাদের কঠিন বিচার হওয়া দরকার। আমরা কাউকে জোর করে রোগী নিতে বা গাড়ি আটকাতে বলিনি।”
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ আগস্ট শরীয়তপুরে একইভাবে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলেও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলাবাসী।
















