‘আব্দুল্লাহ’ সিনেমার স্মৃতিচারণ; কমেডিয়ান থেকে নায়ক হয়ে বাজিমাত করেছিলেন দিলদার
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা দিলদারের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এই বিশেষ দিনে তাঁকে স্মরণ করে নব্বই দশকের গুণী অভিনেত্রী নূতন জানিয়েছেন এক অজানা তথ্য—দিলদারের বিপরীতে 'আব্দুল্লাহ' সিনেমায় অভিনয় না করার জন্য তাকে অনেকেই নিষেধ করেছিলেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিনোদন জগতের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে আসে ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কালজয়ী সিনেমা ‘আব্দুল্লাহ’ তৈরির নেপথ্য কাহিনী। কৌতুক অভিনেতা থেকে নায়ক হিসেবে দিলদারের যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। প্রযোজক নাদের খান জানান, পরিচালক তোজাম্মেল হক বকুল যখন দিলদারকে নায়কের প্রস্তাব দেন, তখন দিলদার ভয় পেয়েছিলেন যে তাঁর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। আরও চ্যালেঞ্জিং ছিল নায়িক খুঁজে পাওয়া। তৎকালীন শীর্ষ নায়িকা মৌসুমী ও শাবনূরসহ অনেকেই দিলদারের বিপরীতে অভিনয় করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
শেষ পর্যন্ত অভিনেত্রী নূতন এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। নূতন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “দিলদারের বিপরীতে রাজি হওয়ার পর প্রায় সবাই আমাকে ফোন করে নিষেধ করেছিল। কিন্তু আমি মনে করি একজন পেশাদার অভিনেত্রীর দায়িত্ব হলো পরিচালকের পছন্দের পাত্রের বিপরীতেই সেরাটা দেওয়া। আমি আমার জায়গায় সঠিক ছিলাম।” মুক্তির পর হলমালিকদের ভয় জয় করে সিনেমাটি অভাবনীয় সাফল্য পায়। সে সময়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার ব্যবসা করে রেকর্ড গড়েছিল ‘আব্দুল্লাহ’। ১৯৭২ সালে ‘কেন এমন হয়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করা দিলদার ২০০৩ সালের এই দিনে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। মৃত্যুর দুই দশক পেরিয়েও ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘বিক্ষোভ’ বা ‘অন্তরে অন্তরে’র মতো অসংখ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি আজও দর্শকের মনে হাসির খোরাক জোগাচ্ছেন।
















