সবার সহযোগিতা থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট উপহার দেওয়া সম্ভব; ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে আপিল শুনানি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিল বুথ পরিদর্শনকালে তিনি এই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। সিইসি বলেন, দেশবাসী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা থাকলে একটি ঐতিহাসিক অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব। এদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের আপিল আবেদন জমা নেওয়ার কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে, যা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী বাছাই প্রক্রিয়া শেষে এখন শুরু হয়েছে বিচারিক ধাপ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আজ আপিল বুথগুলো ঘুরে দেখেন এবং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
আপিল প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য রিটার্নিং অফিসারদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যারা সংক্ষুব্ধ, তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারছেন।
সময়সীমা: ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আপিল আবেদনের জন্য ১ সেট মূল কাগজ এবং ৬ সেট ফটোকপি মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দিতে হবে।
আঞ্চলিক বুথ: প্রার্থীদের সুবিধার্থে সারাদেশে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে ১০টি পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
শুনানি ও রায়ের সময়সূচি আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আপিল শুনানি।
শুনানির সময়: ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী শুনানি চলবে।
ফল প্রকাশ: শুনানির ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে মনিটরে প্রদর্শন করা হবে এবং ই-মেইলে পিডিএফ কপি পাঠানো হবে।
রায়ের হার্ডকপি: ১০-১২ জানুয়ারির রায় ১২ জানুয়ারি, ১৩-১৫ জানুয়ারির রায় ১৫ জানুয়ারি এবং ১৬-১৮ জানুয়ারির রায় ১৮ জানুয়ারি বিতরণ করা হবে।
সিইসি’র ভাষ্য ও মাঠপর্যায়ের চিত্র সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, “সবার সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আমরা চাই প্রতিটি যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাক।” প্রথম দিনে ইসিতে প্রায় ৪২টি আপিল জমা পড়েছে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ২,৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১,৮৪২টি বৈধ এবং ৭২৩টি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই সাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই জোড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে এক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরির কাজ চলছে।
















