দুই দশক পর ভোটের উৎসব, আবাসনসহ অধিকার আদায়ে বড় প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবার শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন। এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক প্রত্যাশা।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থান করেও আবাসন সুবিধাহীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই জকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। জুলাই–পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই দাবি আরও জোরালো হয়। অবশেষে ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, জকসু নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটসহ নানা শিক্ষাবান্ধব দাবি বাস্তবায়নের পথ খুলবে বলে তারা আশাবাদী। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ করতে চান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। তারা নিজ নিজ প্যানেল নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চাইছেন। ক্যাম্পাসে প্রচারণা, আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
তবে নির্বাচন সামনে রেখে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। একাধিক পক্ষ অভিযোগ করেছে, শেষ মুহূর্তে অনৈতিক প্রভাব ও অর্থের অপব্যবহার উৎসবের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
সব অভিযোগের পরও নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জকসু প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান জানান, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জন্য ৩৮টি এবং একটি হল সংসদের জন্য মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। শেষ মুহূর্তের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কমিশন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
















