ধর্মীয় মৌলবাদ ও গণমাধ্যমে হামলার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় কর্মসূচি, পুলিশের ব্যারিকেডে থামে মিছিল
কলকাতায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিক্ষোভের পর একই দিনে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশের উপদূতাবাস অভিমুখে মিছিল করে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে পুলিশ আগেই মিছিলটি থামিয়ে দেয়।
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাসের দিকে সন্ধ্যায় মিছিল করেছে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা। দুপুরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের পরদিনই নয়, একই দিন সন্ধ্যায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে উপদূতাবাস এলাকা ঘিরে একাধিক ব্যারিকেড বসানো হয়। বামপন্থি দলগুলোর মিছিলটি উপদূতাবাসের প্রায় ২০০ মিটার দূরে গিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়। তবে বামপন্থি কর্মীরা ব্যারিকেড ভাঙার কোনো চেষ্টা করেননি এবং শান্তিপূর্ণভাবেই অবস্থান কর্মসূচি শেষ করেন।
এই মিছিলে অংশ নেয় Communist Party of India (Marxist) (সিপিআই–এম), Communist Party of India (সিপিআই), Revolutionary Socialist Party (আরএসপি) এবং Forward Bloc–সহ একাধিক বামপন্থি দল।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। একইসঙ্গে তারা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা, পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলার ঘটনাগুলোরও তীব্র সমালোচনা করেন।
বক্তৃতায় বারবার উঠে আসে—
“ধর্মান্ধতার জবাব ধর্মান্ধতা হতে পারে না।”
এর আগে একই দিনে দুপুরে কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠনের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে ফেললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, একই দিনে ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক ঘিরে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ, যা কূটনৈতিক নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
















