রাবনাবাদ চ্যানেলের ৭০ কিমি গভীর সাগরে নজিরবিহীন ঘটনা, নাবিকরা বলছেন—জীবনে প্রথম এমন দৃশ্য
পটুয়াখালীর রাবনাবাদ চ্যানেল পেরিয়ে গভীর সমুদ্রে শিকারি মাছের তাড়ায় আতঙ্কিত হয়ে শত শত ইলিশ লাফিয়ে উঠে পড়ে একটি লাইটার জাহাজের ডেকে। মুহূর্তেই জমে যায় প্রায় তিন মণ রুপালি ইলিশ। ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল করেছেন নাবিকরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ইলিশের ‘panic schooling’ আচরণ।
পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেল পেরিয়ে প্রায় ৭০ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে দেখা গেছে এক বিরল দৃশ্য—শিকারি মাছের তাড়ায় আতঙ্কিত হয়ে শত শত ইলিশ লাফিয়ে উঠে পড়েছে একটি কয়লাবাহী লাইটার জাহাজের ডেকে। মুহূর্তের মধ্যেই প্রায় তিন মণ রুপালি ইলিশ জমে যায় জাহাজে, কোনো জাল ছাড়াই।
ঘটনা ঘটে ২৭ নভেম্বর দুপুরে, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটির পথে থাকা এমভি কেএসএল গ্লাডিয়েটর জাহাজে। নাবিকরা জানান, জাহাজের দুই পাশ ঘেঁষে ছোট ইলিশের বড় দল ‘কিছু থেকে বাঁচতে’ দৌড়াচ্ছিল। আচমকা শুরু হয় লাফিয়ে ওঠা—একটির পর একটি মাছ ডেকে পড়তে থাকে। জাহাজের প্রকৌশলী রবিউল হোসেন ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন এবং বলেন, “চোখের পলকে প্রায় তিন মণ ইলিশ উঠে এল। জীবনে কখনো এমন দৃশ্য দেখিনি।”
আরেক নাবিক জানান, কয়েক মিনিটের মধ্যে ডেক ভর্তি হয়ে যায় ইলিশে। নাবিকরা যতটা পারেন কুড়িয়ে নেন, বাকিগুলো আবার সমুদ্রে পড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরাও বিস্ময় লুকাতে পারছেন না, তবে এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার। তিনি জানান, একে বলা হয় ‘panic schooling’—শিকারি টুনা, ডলফিন বা বারাকুডার আক্রমণের ভয়ে ইলিশ দল বেঁধে দ্রুত সাঁতার কাটে এবং সামনে কোনো বড় বস্তু পেলে আতঙ্কে লাফিয়ে ওঠে। জাহাজের আলো, শব্দ এবং ইঞ্জিনের কম্পনও তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে।
প্রজনন মৌসুমে ইলিশের অতিরিক্ত সক্রিয়তা এ ধরনের আচরণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও জানান তিনি।

জাহাজের নাবিকরা বলছেন, বহু বছর সমুদ্রে থেকেও এমন অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি। কেউ এটিকে ‘রুপালি উপহার’, কেউ ‘জীবনে একবারের দৃশ্য’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
রবিউলের ধারণ করা ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রের ওপর ছুটছে ইলিশের ঝাঁক; জাহাজের দুই পাশ ঘেঁষে আতঙ্কে লাফিয়ে উঠে পড়ছে; কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ডেক ভরে যাচ্ছে রুপালি ইলিশে।
বাংলাদেশে ইলিশ শুধু মাছ নয়; আবেগ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অংশ। তাই গভীর সমুদ্রে এমন এক অনন্য দৃশ্য স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
















