আমেরিকার খুচরা বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় নাম ওয়ালমার্টে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নেতৃত্ব দেওয়া ডগ ম্যাকমিলন জানুয়ারিতে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর দীর্ঘ যাত্রা শেষ হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন বিস্তার এবং ঝুঁকিপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবসা পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছে।
৫৯ বছর বয়সী ম্যাকমিলনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বহু বছর ধরে ওয়ালমার্টে বেড়ে ওঠা জন ফার্নার। কর্মজীবন শুরু করেছিলেন দোকানের কর্মী হিসেবে, আর এখন তিনি প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসার প্রধান। সেই অভিজ্ঞতার পথ পেরিয়ে তিনি এখন ধরতে যাচ্ছেন পুরো কোম্পানির হাল।
এ পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন নতুন শুল্ক, অনিশ্চিত বাজার পরিস্থিতি আর ভোক্তাদের কমতে থাকা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেও ওয়ালমার্ট ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে।
ওয়ালমার্টের চেয়ারম্যান গ্রেগ পেনার জানিয়েছেন, ম্যাকমিলনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ২০১4 সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ই কমার্সের উত্থান ওয়ালমার্টকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। সেই ঝড় সামলেই তিনি প্রতিষ্ঠানকে নতুন আলোয় দাঁড় করান। পেনারের ভাষায়, সহযোগীদের উন্নয়নে বিনিয়োগ থেকে শুরু করে ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো, আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা—সব মিলিয়ে ম্যাকমিলনের সময়ে কোম্পানি টেকসই আর্থিক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, পদ ছাড়ার পরও ম্যাকমিলন পরবর্তী ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বোর্ডের সদস্য হিসেবে থাকবেন এবং জন ফার্নারকে সহায়তা করবেন এই পরিবর্তনের পথে।
নিজের বিদায়বার্তায় ম্যাকমিলন বলেছেন, ওয়ালমার্টের প্রধান হিসেবে কাজ করা ছিল তাঁর জীবনের এক মহান সম্মান। একই সঙ্গে তিনি ফার্নারের প্রশংসায় জানান, আগামীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর রূপান্তর মোকাবিলায় তিনি অদ্বিতীয়ভাবে সক্ষম।
এ বছরের শুরু থেকে কোম্পানির শেয়ার মূল্য প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের খবর প্রকাশের পর বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার মূল্য প্রায় ২ শতাংশ নিচে নেমে আসে।
ওয়ালমার্টের এই নীরব অথচ গভীর পরিবর্তন যেন ব্যবসার আকাশে আরেকটি নতুন ভোরের ইঙ্গিত, যেখানে পুরোনো অভিজ্ঞতার আলো আর নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন মিলেমিশে তৈরি করছে নতুন পথ।
















