ইরানের সঙ্গে সংঘাত পুনরায় শুরু করলে ইসরায়েলকে একাই এর পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর উভয় পক্ষ হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার মধ্যেই এ বার্তা দেন তিনি।
সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে চলমান আলোচনার পথে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি দুই পক্ষকেই হামলা বন্ধ রাখার আহ্বান জানান এবং চূড়ান্ত সমঝোতার পথ সুগম করার ওপর জোর দেন।
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে তাকে একাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে।
নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয় লেবাননের রাজধানীর একটি উপশহরে প্রাণঘাতী হামলার পর। এর জবাবে ইরান উত্তর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষই সীমিত সময়ের জন্য হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।
তবে হামলা স্থগিতের ঘোষণার পরও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে বলে অভিযোগ ওঠে। জবাবে ইরানও কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। যদিও উভয় পক্ষেই কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, দেশের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেই অধিকার প্রয়োগ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে ইরান আবার হামলা চালালে তার জবাব আরও কঠোর হবে।
অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারা এই উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ইরানের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান তাদের প্রতিরোধক্ষমতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে একই সঙ্গে তারা কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মধ্যস্থতাকারী দেশের সহায়তায় দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, অচিরেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
এদিকে লোহিত সাগর অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একটি আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে নতুন হুমকি দিয়েছে। একই সময়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে একাধিক স্থানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক ভাষ্যে কঠোর অবস্থান দেখা গেলেও বাস্তবে পরিস্থিতি কতটা পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর।
















