লাটভিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রুশ ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার প্রভাবে ড্রোনটি লাটভিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে লাটভিয়ার সেনাবাহিনী জানায়, মিত্র দেশের যুদ্ধবিমান একটি বিদেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে ড্রোনটি কোন দেশ থেকে এসেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ঘটনাটি ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধসংক্রান্ত ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সীমান্ত অতিক্রম করে ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি দেশে প্রবেশের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
লাটভিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে মিত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের আকাশসীমা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের একটি এলাকায় স্থানীয় সময় সকাল নয়টার কিছু পরে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়। এতে কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
মিত্র দেশের সামরিক বাহিনী জানায়, প্রতিবেশী একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা যুদ্ধবিমান জনবসতিহীন এলাকায় ড্রোনটি ধ্বংস করে। তারা এটিকে ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ঘটনার আগে পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ আকাশ ও সমুদ্রপথে ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ক্রমশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অনুভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
একই দিনে আরেক প্রতিবেশী দেশে একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা এর জন্যও রুশ ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন।
গত সপ্তাহে আরেকটি ইউরোপীয় বন্দরে একটি সামুদ্রিক ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরে জানা যায়, ড্রোনটি নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল।
ইউরোপীয় নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তার জন্যও সরাসরি হুমকি হয়ে উঠছে।
















