চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কয়েকটিকে ‘চীনা সামরিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে দেশটির ই-কমার্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈদ্যুতিক গাড়ি খাতের কয়েকটি বহুল পরিচিত প্রতিষ্ঠান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর সোমবার হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। দূতাবাসের এক মুখপাত্র একে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করে।
তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা সামরিক খাতের অংশ নয় এবং সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কৌশলের সঙ্গেও জড়িত নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।
হালনাগাদ তালিকায় বর্তমানে মোট ১৮৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, এই তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের চুক্তির জন্য বিবেচিত হবে না।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে অথবা সামরিক ও বেসামরিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের সমন্বিত কৌশলে অবদান রাখে, তাদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একাংশ এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা ও বাজারে এমন প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কমানো উচিত।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, এত বিস্তৃত পরিসরে নিষেধাজ্ঞা বা কালোতালিকা কার্যকর করা কঠিন হতে পারে। কারণ অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এসব চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গভীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখনো ব্যাপকভাবে পরস্পরনির্ভরশীল। ফলে এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।
















