ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া ও চীন। দুই দেশই অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার–এর সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল এবং সেখানে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগও আলোচনায় ছিল।
তিনি বলেন, এই আলোচনার মাঝেই সামরিক হামলা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। চীন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার বিরোধিতা করছে এবং সংঘাত আরও বাড়ার আগে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে।
ওয়াং ই বলেন, শক্তি প্রয়োগ কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং এতে নতুন সংকট সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি গুরুতর পরিণতি দেখা দেয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল তাদের অনুরোধে ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এড়াতে চেয়েছিল।
তার মতে, এই হামলার ফলে ইরানের ভেতরে এমন শক্তি তৈরি হতে পারে যারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পক্ষে অবস্থান নেবে।
লাভরভ বলেন, যেসব দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত হামলা চালায় না। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি অন্য দেশগুলোকেও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে ঠেলে দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কারণে আরব দেশগুলোও পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়তে পারে, যা পুরো অঞ্চলে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে।
রাশিয়ার দাবি, এখন পর্যন্ত তারা এমন কোনো প্রমাণ দেখেনি যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে।
মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি–এর সঙ্গে কথা বলে লাভরভ জানান, রাশিয়া এই সংকটের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করলে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত সামরিক আগ্রাসন বলে উল্লেখ করেছিল।
মস্কোর মতে, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল মানবিক, অর্থনৈতিক এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং এর দায় সম্পূর্ণভাবে হামলাকারী দেশগুলোর ওপর বর্তাবে।
















