গত মাসের দেশব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষের মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে প্রবাসী ইরানিরা রাস্তায় নেমে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সম্ভাব্য নতুন দফা আলোচনার আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরবিরোধী অবস্থান তুলে ধরেছে।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ চায়। তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র জুন মাসে বোমা হামলায় যে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করছে, তার বিষয়ে তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে সমঝোতায় যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বলেছেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছেন এবং ইরানে শাসন পরিবর্তনই সবচেয়ে ভালো সমাধান হতে পারে। অন্যদিকে তেহরানে এক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ইরান নিজস্ব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে সক্ষম, যুদ্ধ হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে জেনেভায় নতুন দফা আলোচনা হতে পারে, ওমান মধ্যস্থতা করবে।
এ পরিস্থিতিতে মিউনিখ, লস অ্যাঞ্জেলেস ও টরন্টোসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিডনি ও মেলবোর্নেও প্রবাসী ইরানিরা বিক্ষোভ করেছেন। ইরানের সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভি প্রবাসীদের ‘বিশ্বব্যাপী কর্মসূচি দিবস’-এ অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভকারীরা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় শাসনের অবসান চান। টরন্টোয় গত মাসের সমাবেশে দেড় লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মিউনিখেও প্রায় এক লাখ মানুষ আগাম নিবন্ধন করেন।
ইরানের ভেতরে নিহতদের পরিবারগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করে প্রিয়জনদের স্মরণ করছে। তেহরানের বেহেশত-এ জাহরা কবরস্থানে ‘চেহেলোম’ পালনে ভিড় জমেছে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন চিকিৎসাশাস্ত্রের ছাত্রী আয়দা হায়দারি ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহরা বেহলুলিপুর। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, হায়দারি সাম্প্রতিক দাঙ্গায় বিদেশি গোয়েন্দাদের ষড়যন্ত্রের শিকার।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় বাহিনী প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করেছে। তবে ইরান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদপুষ্ট সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীরাই সহিংসতার জন্য দায়ী।
বিক্ষোভ চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে হাজারো মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, অনেকেই মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে আছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়সী কুস্তিগীর সালেহ মোহাম্মদীকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক সতর্ক করে বলেছেন, আগের মতোই একই ধাঁচে ব্যাপক দমন-পীড়ন চলছে।
ইন্টারনেটে কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে বিক্ষোভে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়।
















