যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ভাষণ দিয়ে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানিয়েছেন। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের পর তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বন্ধুত্ব নতুন করে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপের ‘সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুই পক্ষ একসঙ্গে পথচলার জন্যই নিয়তি নির্ধারিত। তবে বক্তব্যে রাশিয়ার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে তিনি ইউরোপের অভিবাসন ও জলবায়ু নীতির সমালোচনা করেন। তার দাবি, শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের অতিরিক্ত আশাবাদ পশ্চিমা দেশগুলোকে এমন এক বিভ্রমে ফেলেছিল, যেখানে সবাই উদার গণতন্ত্রে রূপ নেবে এবং সীমান্তহীন বিশ্ব গড়ে উঠবে—যা বাস্তবে ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
রুবিও বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সার্বভৌমত্ব ছেড়ে দেওয়া এবং ব্যাপক অভিবাসনের ঢেউ পশ্চিমা সমাজের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতাকে হুমকিতে ফেলেছে। একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু নীতিকে তুষ্ট করতে গিয়ে জ্বালানি নীতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। তার মতে, অতীতের ভুল স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে একসঙ্গে নতুনভাবে এগোতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, কোরিয়ার কেপিয়ং থেকে আফগানিস্তানের কান্দাহার পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছে। নতুন শতাব্দীর সমৃদ্ধির পথে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের সঙ্গে নিয়েই অগ্রসর হতে চায় বলে জানান তিনি।
রুবিওর ভাষণকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন আশ্বস্তকারী বলে মন্তব্য করলেও তিনি স্বীকার করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এ বিষয়ে কঠোর সুরও রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপকে প্রতিরক্ষা ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্বে আরও স্বনির্ভর হতে হবে।
লিথুয়ানিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েলিয়ুস ল্যান্ডসবার্গিস বলেন, ইউরোপীয়দের কাছে অভিবাসন বা শিল্পহ্রাস নয়, প্রধান যৌথ স্বার্থ নিরাপত্তা। বিশ্লেষকদের মতে, রুবিওর সুর নমনীয় হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি। আশঙ্কা রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে এমন কোনো সমঝোতা হতে পারে, যাতে কিয়েভকে ভূখণ্ড ছাড়তে বাধ্য করা হয়। আগামী সপ্তাহে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কথা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই ছাড় দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলে, তবে তা অধিকাংশ সময় ইউক্রেনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাসও সতর্ক করে বলেন, আগ্রাসী শক্তিকে যা চায় তা দিয়ে দিলে যুদ্ধ সাময়িক থামতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে হুমকি থেকেই যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরে নীতিগত অসঙ্গতি ও বারবার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে ইউরোপীয় অংশীদারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্টভাবে বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে।
















