যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার পথে এগোল উরুগুয়ে। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর মঙ্গলবার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশ এক ডজনের বেশি সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু অরসি বলেন, তার দেশ সক্রিয় আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার নীতি অনুসরণ করছে, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক জোরদার করছে এবং জাতীয় উন্নয়নের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
চীনা পক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়, শি জিনপিং অরসির সঙ্গে বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি দুই দেশের ‘সমগ্র কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও শক্তিশালী করে যৌথ উন্নয়নের পথে কাজ করার আহ্বান জানান।
রোববার শুরু হওয়া সাত দিনের চীন সফরে অরসির সঙ্গে রয়েছেন প্রায় ১৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এতে ব্যবসায়ী ও উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। সফরের পরবর্তী গন্তব্য সাংহাই।
এই সফর আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ নজর কেড়েছে, কারণ জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাসে এক রক্তক্ষয়ী অভিযানে আটক করার পর অরসিই প্রথম লাতিন আমেরিকান নেতা হিসেবে চীন সফর করলেন।
মাদুরো আটক হওয়ার পর অরসি প্রথমে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করলেও পরে স্থানীয় গণমাধ্যমে বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে সেটি ইতিবাচক খবর হবে।
তবুও চীনের সঙ্গে অরসির ঘনিষ্ঠতা ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরক্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে লাতিন আমেরিকাকে তথাকথিত ‘শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি প্রভাব’—অর্থাৎ চীনের প্রভাব—থেকে মুক্ত রাখতে চান বলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলসহ এই সফরের মাধ্যমে অরসি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন যে, ট্রাম্পের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও উরুগুয়ে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।
চীন উরুগুয়ের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর একটি। গরুর মাংস, সয়াবিন ও দুগ্ধজাত পণ্য মিলিয়ে গত বছর উরুগুয়ে চীনে প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে চীন থেকে উরুগুয়ে প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা মানে এই নয় যে দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বরং তারা বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে নিজেদের দূরত্ব নতুনভাবে সামঞ্জস্য করার চেষ্টা করছে।
চীনও এসব বৈঠকের মাধ্যমে নিজেকে একটি নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যে দেশটি সম্পর্ক গড়ায় অগ্রাধিকার দেয়—যা ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনীতির সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
















