স্কুলে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করার পক্ষে অনেক অভিভাবক থাকলেও সন্তানের নিরাপত্তা ও যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
হ্যাম্পশায়ারের বাসিন্দা স্যাম মার্লো শুরুতে ভেবেছিলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ওঠার সময় তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে রুবিকে একটি স্মার্টফোন কিনে দেবেন। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে স্কুল কর্তৃপক্ষ নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল প্রাঙ্গণে স্মার্টফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। পরিবর্তে শুধু কল ও বার্তা পাঠানো যায় এমন সীমিত সুবিধার সাধারণ ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।
স্যাম বলেন, এতে করে অভিভাবকদের আর সন্তানকে ফোন না দেওয়ার জন্য কঠোর হতে হয়নি। যদিও শুরুতে রুবি কিছুটা হতাশ হয়েছিল, তবে সে জানত তার সব সহপাঠীর ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য।
তিনি জানান, গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করায় মেয়ের স্কুলে যাতায়াতের সময় অবস্থান জানার সুবিধা না থাকাটা তার কাছে বড় অসুবিধা। তবে তিনি আলাদা একটি ব্লুটুথ ট্র্যাকার কিনে দিয়েছেন, যাতে কিছুটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
স্যাম বলেন, স্কুলের এই সিদ্ধান্তে তিনি খুবই খুশি। কারণ বড় মেয়ের ক্ষেত্রে তিনি দেখেছেন, সপ্তম শ্রেণিতে ওঠার পর স্মার্টফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে শত শত শিক্ষার্থীর গ্রুপ চ্যাটে যুক্ত করা হয়েছিল।
এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের লর্ডস সভায় শিশু কল্যাণ ও স্কুল আইন সংশোধন করে স্কুলে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের একটি প্রস্তাবে সমর্থন দিলেও সরকার তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে।
বর্তমানে সরকারি নির্দেশনায় বলা আছে, স্কুলগুলোতে সাধারণভাবে মোবাইল ফোনমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা উচিত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি স্কুলপ্রধানদের চিঠি দিয়ে স্কুল সময়জুড়ে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
ইংল্যান্ডের প্রায় সব স্কুলেই কোনো না কোনোভাবে ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবে নীতিমালায় ভিন্নতা দেখা যায়। কোথাও ফোন পকেটে রেখে নীরব অবস্থায় রাখার নিয়ম, কোথাও আবার লকার বা তালাবদ্ধ পাউচ ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে।
ম্যানচেস্টারের একটি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক সামান্থা সাং বলেন, আইনি নিষেধাজ্ঞা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা ছাড়া পুরোপুরি ফোনমুক্ত স্কুল গড়ে তোলা প্রায় অসম্ভব। তার ভাষায়, সবাই একই নিয়ম মেনে চললে অভিভাবকদের সমর্থন পাওয়া সহজ হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ব্যাগে ফোন রেখে দেওয়ার নীতি শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহার পুরোপুরি ঠেকাতে পারে না। অনেক সময় অভিভাবকরাও বুঝতে পারেন না, শিশুরা কী ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখতে পারে।
তবে শিক্ষার্থীরা বলছে, তারা নিয়ম মানার চেষ্টা করে এবং জরুরি প্রয়োজনে ফোন কাছে থাকাটা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কেউ জানায়, বাসের টিকিট থেকে শুরু করে পড়াশোনার অ্যাপ—সবই এখন ফোননির্ভর।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সী প্রতি চারজন শিশুর একজনের নিজস্ব স্মার্টফোন রয়েছে এবং মাধ্যমিক স্তরে পৌঁছানোর আগেই প্রায় সব শিক্ষার্থীর হাতে মোবাইল ফোন থাকে।
অভিভাবক সংগঠনগুলো বলছে, বেশিরভাগ বাবা-মা সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অবস্থান জানার সুবিধার জন্য ফোন দেন। তবে তারা এটাও মানছেন, স্মার্টফোন শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
শিক্ষকদের সংগঠনগুলোর মতে, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ফোন ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে এবং সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে অতিরিক্ত অর্থ ও সহায়তা দরকার।
হ্যাম্পশায়ারের রুবির স্কুলে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করায় ইতোমধ্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। অনেক অভিভাবকই এখন সন্তানদের জন্য ফোন কেনা পিছিয়ে দিচ্ছেন।
তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করছে, স্কুলের বাইরে—বিশেষ করে বাসে বা বাড়ির পথে—শিশুরা কী দেখছে বা কার প্রভাবে পড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক একমত যে, স্কুলের ভেতরে ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ জরুরি। তবে স্কুলের বাইরে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিয়েই এই বিতর্কের মূল প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।
















