যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একশ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন। হোয়াইট হাউস ও হার্ভার্ডের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এই ঘোষণার আগে নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের সঙ্গে আলোচনায় দুইশ কোটি ডলার পরিশোধের দাবি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছিল। সোমবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ওই প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলেন, হার্ভার্ড নিউইয়র্ক টাইমসকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছেন, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের সময় হার্ভার্ড ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
হার্ভার্ড যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসগুলোতে তথাকথিত উগ্র বাম ও অতিরিক্ত প্রগতিশীল মতাদর্শ দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
গত বছরের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রায় দুইশ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান বাতিল করেন এবং হার্ভার্ডের ফেডারেল তহবিল স্থগিত করেন। এর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করে জানায়, কোনো সরকারই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কী পড়াবে, কাকে ভর্তি বা নিয়োগ দেবে কিংবা কোন গবেষণায় যুক্ত হবে, তা নির্ধারণ করতে পারে না।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত ওই অর্থছাঁটাই বাতিল করে দেয় এবং রায়ে বলা হয়, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস ওই রায়কে গুরুতর ভুল উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, ভবিষ্যতেও হার্ভার্ড অনুদান পাওয়ার অযোগ্য থাকবে।
সোমবারের ঘোষণার আগে ফেডারেল তহবিল পুনর্বহাল নিয়ে সরকার ও হার্ভার্ডের মধ্যে আলোচনা চলছিল। কিন্তু ট্রাম্প বলেন, এখন তারা একশ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চাইছেন এবং ভবিষ্যতে হার্ভার্ডের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না।
তিনি হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে গুরুতর অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুললেও, কীভাবে আইন ভঙ্গ হয়েছে সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
এর আগে ট্রাম্প হার্ভার্ডের করমুক্ত সুবিধা বাতিল করা এবং ফেডারেল অর্থায়নে হওয়া গবেষণা থেকে উদ্ভূত পেটেন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন।
এদিকে একই ধরনের অভিযোগে অর্থছাঁটাইয়ের মুখে পড়া আইভি লিগের আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়—কলম্বিয়া, পেনসিলভানিয়া ও ব্রাউন—আদালতে না গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায়, যাতে তাদের তহবিল রক্ষা পায়।
















