গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান ঘিরে বিএনপি–জামায়াত–এনসিপির তীব্র প্রতিক্রিয়া
প্রকাশ্য বক্তব্যে রাজনৈতিক পক্ষগুলো মুখোমুখি; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
গণভোট ইস্যুতে প্রকাশ্যে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে রংপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে জিএম কাদের–কে ঘিরে। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি–সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় পক্ষগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এতে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জিএম কাদের গণভোটকে সংবিধানবিরোধী আখ্যা দিয়ে জনগণকে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগকে ভোটে অংশ নিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এসব বক্তব্যে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কটূক্তিও করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে বিএনপি নেতারা জিএম কাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনের নামে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে এনসিপি নেতারা বলছেন, ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে গণভোটকে ব্যবহার করা হচ্ছে—যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীরা।
সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জুলাই আন্দোলনের সময় রংপুরে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও পরবর্তী সময়ে এনসিপির অনেক নেতা প্রকাশ্যে আন্দোলনে সক্রিয় থাকলেও জাতীয় পার্টিকে মাঠে দেখা যায়নি। তাদের মতে, জিএম কাদেরের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং এতে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রংপুরের ভিডিও জার্নালিস্ট সংগঠনের সদস্য আবুল কাশেম বলেন, জিএম কাদেরের বক্তব্য ঘিরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তবে তিনি জানান, এসব চাপ তাকে গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান থেকে সরাবে না।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতি নুরুল হুদা অভিযোগ করেন, জিএম কাদের দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন এবং তার বক্তব্য রংপুরের শান্ত পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
বিএনপি নেতা কাইয়ুম হোসেন বলেন, জিএম কাদেরের প্রকাশ্য বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিএম কাদের ভেবেচিন্তেই বক্তব্য দিচ্ছেন। দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সংঘাতের আশঙ্কা ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা মাত্র, বাস্তবে এমন কিছু হবে না।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল মজিদ বলেন, গণভোটকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং মাঠে কোনো সংঘাত হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
















