প্রচারের শুরুতেই গুলি, অস্ত্র উদ্ধার—ভয়মুক্ত ভোট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই গুলির ঘটনা ও জামায়াত প্রার্থীর সভা থেকে অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন আটকের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় জামায়াত জোটের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও ইসির প্রতি জোর দাবি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার-প্রচারণা শুরু হলেও এর সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। প্রচারের প্রথম দিনেই বিএনপি নেতাকে গুলি করা এবং জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর নির্বাচনী কর্মসূচি থেকে অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন আটক হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে করে জামায়াত জোটের প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা স্পষ্ট হয়ে[ii] উঠেছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন,
“সব ধরনের হত্যা, সন্ত্রাস ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরা বরাবরই অবস্থান নিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সরকারের প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। আমরা চাই, জনগণ যেন ভয়ভীতিমুক্তভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।”
ঢাকা-৭ আসনে জামায়াত প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ
গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ–কে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলে দলটি। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের উদাসীনতার ফলেই সন্ত্রাসীরা উৎসাহিত হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পরও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হওয়ায় ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি ও নির্বাচনী প্রার্থীরা এখন টার্গেটে পরিণত হয়েছে।”
হাফেজ এনায়েত উল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তার নির্বাচনী সমাবেশ চলাকালে সন্দেহভাজন তিনজন ঘোরাঘুরি করছিল। পরে তার দেহরক্ষীরা দুজনকে আটক করলে তাদের কাছে ধারালো অস্ত্র পাওয়া যায়। অপর একজন পিস্তল নিয়ে পালিয়ে যায়। আটক দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার পর চকবাজার থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা ও জামায়াত নেতাকর্মীরা।
এনসিপি ও বিএনপির উদ্বেগ
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন। তিনি বলেন,
“আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। প্রার্থীরাই যখন নিরাপত্তাহীন, তখন সাধারণ মানুষের অবস্থা আরও শঙ্কার।”
একইভাবে বিএনপিও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট বানচাল করতেই পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে। কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতাকে গুলির ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রচারের শুরুতেই একের পর এক সহিংস ঘটনা নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, ভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে এখনই শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অন্যথায় আতঙ্কের এই পরিবেশ নির্বাচনী অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
















