সিরিয়ার সেনাবাহিনী আলেপ্পো প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সরকার পক্ষের অভিযোগ, কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস এসডিএফ ওই এলাকায় নতুন করে সেনা জড়ো করছে, যার ফলে আলেপ্পো শহর ও আশপাশে আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটি মানবিক করিডোর খোলা থাকবে, যাতে পূর্ব আলেপ্পোর দেইর হাফের ও মাসকানা এলাকা থেকে বাসিন্দারা নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারেন। এর আগে এসব অঞ্চলকে সামরিক এলাকা ঘোষণা করে সেখানে সরকারি বাহিনীর অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়।
আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, ভারী অস্ত্রসহ সামরিক বহর এলাকায় প্রবেশ করেছে, যা সরকারের পক্ষ থেকে এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল মোকাবিলায় দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আলেপ্পো শহরে সিরীয় সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এসডিএফের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। মার্চ মাসে এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার একটি চুক্তি হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা থেমে যাওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে।
৯ জানুয়ারি ঘোষিত এক যুদ্ধবিরতির পর আলেপ্পোর আশরাফিয়াহ ও শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে এসডিএফ যোদ্ধাদের একটি অংশ উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় সরে যায়। তবে দেইর হাফের ও মাসকানায় দুই পক্ষের মধ্যে সীমিত গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনী এসডিএফকে ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব পারে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সরকারি অভিযোগ অনুযায়ী, আলেপ্পো শহরে ড্রোন হামলার পেছনেও এসডিএফ জড়িত, যার একটি হামলায় শনিবার আলেপ্পো গভর্নরেট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপরদিকে এসডিএফ দাবি করেছে, দেইর হাফের এলাকায় অবকাঠামো ও স্থাপনায় সেনাবাহিনী হামলা বাড়িয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে আলেপ্পোর আল-সাফিরা এলাকায় কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসডিএফের সেনা সমাবেশে পিকেকে সংশ্লিষ্ট যোদ্ধারাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তুরস্ক জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দেশটির দামেস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নুহ ইলমাজ আলেপ্পো সফর করে সংঘাত এড়িয়ে মার্চ চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
এলাকাবাসীর একজন আল জাজিরাকে বলেন, মানুষ এলাকা ছাড়তে চাইলেও কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই। চারদিকে বোমাবর্ষণ চলছে, সবাই শুধু স্থিতিশীল জীবন চায়।
এদিকে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে আটক কিছু এসডিএফ সদস্যকে মুক্তি দিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বেসামরিকদের ওপর অপরাধের প্রমাণ মেলেনি, তাদের মুক্ত করা হয়েছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুর্দি জনগণের সাহসের প্রশংসা করলেও এসডিএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তারা বেসামরিকদের নিরাপদে সরে যেতে বাধা দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করছে।
















