জাতিসংঘের ৪০ সুপারিশ নিয়ে সরকারের অবস্থান— র্যাবের ‘উন্নত কার্যক্রম’ ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, জাতিসংঘ যেটা বললেই সেটি দেশকে পালন করতে হবে— এমন নয়। র্যাব ও ডিজিএফআই বিলুপ্তির দাবি বাস্তবসম্মত নয় এবং যেসব সুপারিশ গ্রহণযোগ্য মনে হবে, সেগুলোই সরকার বিবেচনা করবে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের ৪০টি সুপারিশের মধ্যে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই) বিলুপ্ত করার প্রস্তাবও ছিল। এসব সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকার বিবেচনা করবে কি না— এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, “ডিজিএফআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আছে। তারা বললেই তো বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়।”
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “৪০টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে— যেগুলো আমাদের ও আমাদের পরবর্তী সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হবে, সেগুলো করা হবে। সব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব— এমন বাধ্যবাধকতা নেই।”
র্যাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “র্যাবের কার্যক্রমে বিপুল পরিবর্তন এসেছে। অতীতে তাদের অনেক দায়িত্ব এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা তাদের স্বাভাবিক কাজের বাইরে ছিল। এখন আমরা চাই, তারা যদি দেশের স্বার্থে কাজ করে, তাহলে প্রতিষ্ঠান নষ্ট করার প্রয়োজন নেই।”
নতুন কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আসার সম্ভাবনা আছে কি না— এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “আমার মনে হয় না নতুন নিষেধাজ্ঞা আসার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। র্যাবের কাজে উল্লেখযোগ্য উন্নতি এসেছে— সবাই তা স্বীকার করছে।”
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে। “প্রসেসে আছে— দেখা যাক কোথায় যেতে পারি।”
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, “এই বিষয়ে আমার অবস্থান আপনারা জানেন। নতুন কিছু বলার নেই।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৃতীয় দেশে আশ্রয় নেওয়ার গুঞ্জন বিষয়ে তিনি বলেন, “আমিও আপনাদের মতোই শুনেছি। আমরা শুধু চাই ভারত তাকে ফিরিয়ে দিক।”
















