জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েল সফরে পৌঁছেছেন। গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি অভিযানের কারণে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চাপে থাকলেও তিনি এই সফরের মাধ্যমে সম্পর্ক পুনরায় জোরদারের আহ্বান জানাতে চান।
শনিবার জর্ডানে সংক্ষিপ্ত বৈঠক শেষে মার্জ স্থানীয় সময় রাত ৮টার কিছু আগে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নামেন। সেখানে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’য়ার তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জার্মানি ইসরায়েলের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
পরে মার্জ জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয়–এর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, আলোচনায় গাজার মানবিক সংকটই প্রধান বিষয় ছিল। তিনি গাজায় আরও বেশি ত্রাণ প্রবেশের আহ্বান জানান এবং হামাসকে অস্ত্র সমর্পণের তাগিদ দেন। পাশাপাশি জর্ডান ও জার্মানির দুই রাষ্ট্রই যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেটিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
রবিবার জেরুজালেমে মার্জ ইয়াদ ভাশেম হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
জার্মানির নাৎসি অতীতের কারণে দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলকে অটল সমর্থন দেওয়াকে দীর্ঘদিন ধরে অপরিহার্য মনে করা হয়। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের জেরে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
মার্জ আগেও ইসরায়েলের অভিযান কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন, যা এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কারণ হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টে তিনি গাজায় ব্যবহৃত হতে পারে এমন অস্ত্র রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর জার্মানি আবারও সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ৩৫০–এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, পাশাপাশি তিন ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুও নিশ্চিত হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েল এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ গাজায় প্রবেশে অনুমতি দিচ্ছে না।
বার্লিন ছাড়ার আগে মার্জ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। তাঁর দপ্তর জানিয়েছে, জার্মানি দুই রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন করলেও আব্বাসকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে জার্মানির বামপন্থী দল ডি লিঙ্কের সহযোগী রোজা লুক্সেমবার্গ ফাউন্ডেশনের তেল আবিব কার্যালয়ের প্রধান গিল শোহাট এ সফরকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধের মামলায় অভিযুক্ত এবং দুর্নীতির অভিযোগেও জড়িত। এখন সেখানে গিয়ে তাঁকে বৈধতা দেওয়া ঠিক নয়।
জার্মান কর্মকর্তােরা জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাঁকে বার্লিনে আমন্ত্রণ জানানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি জার্মানি ইসরায়েলি তৈরি অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রথম ধাপ চালু করেছে। ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অস্ত্র রপ্তানি বলে ধারণা করা হয়।
















