ঢাকা, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত ঘোষিত গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা যাবে না। তার মতে, সংবিধান পরিবর্তনের একমাত্র পথ হলো একটি নির্বাচিত জাতীয় সংসদ।
শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আয়োজিত এক মৌন মিছিল ও সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। সভায় নারীর ওপর সহিংসতা বৃদ্ধি ও নারী অধিকার নিয়ে বিভিন্ন দাবির কথা তুলে ধরা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,
“গণভোট আইন প্রণয়নের জায়গা নয়। গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনও সম্ভব নয়। আগে জাতীয় সংসদ গঠিত হতে হবে।”
তিনি আরও জানান, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে সই হয়েছে, বিএনপি তা প্রতিপালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তার ভাষায়, “এ ছাড়া বাইরে থেকে কোনো জোরজবরদস্তি বা চাপিয়ে দেওয়া প্রস্তাব এলে জনগণই তা বিবেচনা করবে।”
জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান
বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, সংসদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার মতো কোনো পদক্ষেপ তাদের দল বরদাশত করবে না।
“কোনো আরোপিত আইন, নির্দেশ বা জবরদস্তিমূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে সংসদের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না,”—তিনি বলেন।
নারী অধিকার নিয়ে ক্ষোভ ও সতর্কবার্তা
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক সেলিমা রহমান। তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নারীর প্রতি সহিংসতা কমবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নারীরা আবার অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষায়, “নারীদের ঘরে ফেরানোর মতো নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে। তাই অধিকার রক্ষায় নারীদের আরও সোচ্চার হতে হবে।”
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন নিপুণ রায় চৌধুরী। তিনি সতর্ক করে বলেন, নারীর অধিকার নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হলে “দেশের নারীরা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”
‘নারীদের সিদ্ধান্ত নারীরাই নেবে’
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, নারী ঘরে থাকবে নাকি কর্মক্ষেত্রে—এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
“নারীর অধিকার কোনো দয়া বা দাক্ষিণ্যের বিষয় নয়। তাদের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তারাই,”—তিনি বলেন।
ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিজীবনের নানা ক্ষেত্রে নারীরা নিয়মিত হয়রানির মুখে পড়ছেন। পোশাক, মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত জীবন—বিভিন্ন অজুহাতে নারীদের আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
















