চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি, পাইরেসি ও চোরাচালান প্রতিরোধে গত ছয় মাসে ৩ হাজার ৪৮৫টি টহল এবং ১১২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এসব অভিযানে ৩৪ জন চোরাচালানকারী ও ছিঁচকে চোরকে আটক করা হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬টি নৌযানসহ ৪১ জনকে আটক করেছে বাহিনীটি।
শনিবার (২৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি ও পাইরেসির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সম্প্রতি ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ৩ জাহাজে লুট, নিরাপত্তা উদ্বেগ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রসঙ্গে কোস্ট গার্ড জানায়, সংবাদে উল্লেখিত তিনটি জাহাজের মধ্যে দুইটির ঘটনায় কোস্ট গার্ডকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে কোনো মালামাল চুরি হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ও লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন প্রদান করেছে। তাই ওই জাহাজ থেকে মূল্যবান সরঞ্জাম লুটের তথ্য ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
অন্য একটি জাহাজের ঘটনায় চুরির সময় কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়। প্রায় ৭ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্ট বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে বোর্ডিং টিম পাঠিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে নিবন্ধিত ওয়াচম্যান থাকার কথা থাকলেও সেখানে কোনো অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োজিত ছিল না। এটিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেছে বাহিনীটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চোরাকারবারি ও ছিঁচকে চোররা মৎস্য আহরণের আড়ালে কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে বহিঃনোঙরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে অপরাধ সংঘটিত করে থাকে। এসব অপরাধ দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতেও কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬টি নৌযানসহ ৪১ জনকে আটক করেছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। দেশের সুনীল অর্থনীতি, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বহিঃনোঙরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছিঁচকে চুরি, পাইরেসি ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জনবল এবং প্রয়োজনীয় বোট ও সরঞ্জামের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে বাহিনীর জন্য দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সংযোজন এবং জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর আভিযানিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
















