দাপুনিয়া ইউনিয়নে ৩৭ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী দত্তবাড়ী মন্দিরে হামলা; সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধী শনাক্তে মাঠে নেমেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ
২৯ জুন ২০২৬
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নে একটি সার্বজনীন পূজা মন্দিরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রতিমা ভাঙচুরের এক নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে পাঁচ কাহনিয়া গ্রামের দত্তবাড়ী সার্বজনীন পূজা মন্দিরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে জোর তৎপরতা চলছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ কাহনিয়া গ্রামের দত্তবাড়ী সার্বজনীন পূজা মন্দিরকে ঘিরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার বসবাস করেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা এই মন্দিরে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নিয়মিত পূজা-অর্চনা করে আসছেন। প্রত্যক্ষদর্শী কল্পনা রানী সিংহ জানান, সোমবার ভোর আনুমানিক পৌনে ৬টার দিকে তিনি যখন পূজার জন্য ফুল তুলছিলেন, তখন দেখতে পান আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরিহিত এক যুবক বাঁশ এবং ইট দিয়ে মন্দিরের গেটের তালা ভাঙছে। ঘটনাটি দেখে তিনি চিৎকার করে আশপাশের মানুষকে ডাকতে শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয়রা ছুটে আসার আগেই ওই যুবক মন্দিরের ভেতরে ঢুকে কালী ও লক্ষ্মী প্রতিমাসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজন চন্দ্র দত্ত এই ঘটনায় গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আমরা এখানে সম্প্রীতির সঙ্গে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি। আমাদের এলাকায় মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চমৎকার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং মুসলিম ভাইয়েরা সবসময় আমাদের সহযোগিতা করেন। হঠাৎ কী উদ্দেশ্যে এবং কারা এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে এমন কাজ করেছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।” তিনি আরও জানান, মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল এবং police ইতোমধ্যেই সেই ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে এবং অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
















