নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতির প্রথা নিষিদ্ধ করে ঐতিহাসিক একটি আইন পাস করেছে কলম্বিয়া। এর মাধ্যমে দেশটি লাতিন আমেরিকার প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে এই প্রথার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করল।
দীর্ঘ দুই বছরের প্রচেষ্টার পর আইনটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে। এখন এটি রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনটির লক্ষ্য হলো নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতির প্রথা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, চিকিৎসাবহির্ভূত কারণে নারী যৌনাঙ্গ আংশিক বা সম্পূর্ণ অপসারণ কিংবা ক্ষতিসাধন মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৩ কোটি নারী ও কিশোরী জীবনের কোনো না কোনো সময় এ ধরনের প্রক্রিয়ার শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।
কলম্বিয়ায় এই প্রথার অস্তিত্ব বহু বছর আড়ালে ছিল। তবে দুই দশক আগে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর বিষয়টি জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে। এরপর থেকেই বিভিন্ন আদিবাসী নেতা, মানবাধিকারকর্মী এবং আইনপ্রণেতারা প্রথাটি বন্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, সামাজিক গোপনীয়তা, ভয় এবং কুসংস্কারের কারণে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। অনেক পরিবার এখনো এসব ঘটনা প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।
আইনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি শাস্তিমূলক নয়, বরং সচেতনতা ও সহায়তামূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়। এর আওতায় শিক্ষা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারী নেত্রীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজ নিজ এলাকায় এই প্রথার বিরুদ্ধে কাজ করে আসছেন। শুরুতে তাদের বিরোধিতা ও হুমকির মুখে পড়তে হলেও ধীরে ধীরে জনমত পরিবর্তিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইন পাস হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
অধিকারকর্মীদের আশা, এই আইন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং নারীর অধিকার রক্ষায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
















