হাসপাতালের নোংরা পরিবেশে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নারায়ণগঞ্জের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা ও নোংরা পরিবেশ দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতাল পরিদর্শনকালে কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, রান্নাঘর ও টয়লেটের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে তিনি জেলা সিভিল সার্জন ডা. এএফএম মুশিউর রহমানের প্রতি উষ্মাও প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে ৩ দিনের সময় বেধে দেন। তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালের পরিবেশের উন্নতি না হলে কড়া ব্যবস্থা নেয়ারও হুঁশিয়ারি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
গতকাল রোববার হাসপাতালে প্রবেশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এদিন, তিনি এ হাসপাতাল থেকে দেশের ১০টি জেলার সদর হাসপাতালের আইসিইউ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনের আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি টয়লেট ও রান্নাঘরের পরিবেশ এবং ব্যবহার অযোগ্য তৈজসপত্র দেখে সিভিল সার্জনসহ দায়িত্বশীলদের ওপর ক্ষোভ ঝারেন। পরে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরাখাতা যাচাই করেন। এ সময় কয়েকজন চুক্তিভিত্তিক (আউটসোর্সিং) কর্মচারীর অনুপস্থিতি পান। এ নিয়েও সিভিল সার্জনকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাসপাতালের রান্নাঘর থেকে শুরু করে টয়লেট পরিষ্কার। রোগীদের রান্নার জন্য ব্যবহার অযোগ্য তৈজসপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও মালামাল স্তূপ করে রাখায় সেখানে অগ্নিঝুঁকি ও জীবানু ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সিভিল সার্জনকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, সিভিল সার্জন সাহেব মনে কিছু নিবেন না। একটা হাসপাতালে সচিব আসবে, মন্ত্রী আসবে, ডিজি আসবে। আমি দেখলাম আপনার হাসপাতালের অবস্থা। আই অ্যাম ভেরি সরি টু সে, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় গিয়েছি অন্তত আমার ভয়ে হলেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেখেছে। কিন্তু আপনি সেটা করেননি। আপনাকে পরশুদিন পর্যন্ত টাইম দিয়ে গেলাম, আপনার কিচেন থেকে সকল জিনিস বের করতে হবে। সকল কালো পাতিল আপনাকে ভেঙে ভাঙারির কাছে বিক্রি করে দিতে হবে।
এ সময় সিভিল সার্জন মুশিউর রহমান মন্ত্রীর পেছনেই দাঁড়ানো ছিলেন। তিনিই অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন।
হাসপাতালের যত্রতত্র পড়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আপনি সকল অপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি (নিলাম) করে দিন। যেখানে ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে, রোগীদের কষ্ট হচ্ছে, এগুলো কেন জমিয়ে রেখেছেন? কালো পাতিলে কি মানুষ খায়? এই রকম পাতিল আপনার ঘরে রাখবেন? এইখানে রান্না করে আমাদের মানুষকে খাওয়াবেন? হতে পারে তারা গরীব, কিন্তু আমি আর এইটা দেখতে চাই না।
সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের মানসিকতা পরিবর্তনের ওপর জোর দেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো ঢিলেঢালাভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ আর নেই। গত তিনমাস ধৈর্য ধরেছি। চার বছর ধরে আপনি (সিভিল সার্জন) এখানে আছেন। আপনাকে প্রশ্ন করলে আরেকদিকে তাকিয়ে থাকেন, কেন? আপনাকে জানতে হবে সবকিছু। দায়িত্ব পালন করতে হবে। ফরগেট দ্য পাস্ট। অতীতের মতো স্বাস্থ্যসেবা বা কোনো কাজে কোনো কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন চান। এ সরকার বরাবরের সরকারের মতো নাই। তাই এই সরকারের সকল কর্মচারীরাও নিজেদেরকে ভিন্নভাবে ভাবতে হবে, কাজ করতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন। আমাদের সাথে সচিবালয়ে অফিস করেন।
তিনদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি আরো বলেন, হসপিটালের নিয়মানুবর্তিতা, অ্যাটেন্ডেন্স এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আগামী ৩ দিনের ভিতর সিভিল সার্জন সাহেব আপনি যদি নিশ্চিত না করেন, তাহলে ইউ হ্যাভ টু ফেস দ্য কনসিকোয়েন্সেস।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু প্রমুখ। এ অনুষ্ঠানে বাকি ৯টি জেলা ভিডিও কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
















