পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রান-অফে ভোট গণনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছালে রক্ষণশীল প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরিকে অল্প ব্যবধানে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন বামপন্থী কংগ্রেসম্যান রবার্তো সানচেজ।
সোমবার প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, সানচেজ পেয়েছেন ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট, আর ফুজিমোরির প্রাপ্ত ভোট ৪৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান মাত্র কয়েক হাজার ভোটের হওয়ায় ফলাফল নিয়ে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
এর আগে দিনের শুরুতে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন কেইকো ফুজিমোরি। তবে গ্রামীণ অঞ্চলগুলোর ভোট গণনা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সানচেজ এগিয়ে যান। নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়জুড়েই এসব এলাকায় শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছিলেন তিনি।
কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সানচেজ বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসী ও আশাবাদী। তবে শতভাগ ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”
অন্যদিকে রাজধানী লিমায় নিজ বাসভবনের বাইরে ফুজিমোরি সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “শেষ ভোটটি গণনা না হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব, এবং আমি চাই সব পেরুভিয়ানও তাই করুক।”
বিদেশে স্থাপিত কয়েকটি ভোটকেন্দ্রের ভোট এখনো গণনা বাকি রয়েছে, যেগুলো ফুজিমোরির পক্ষে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই প্রার্থীর রাজনৈতিক দর্শনের মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির কন্যা কেইকো ফুজিমোরি কঠোর আইন-শৃঙ্খলা নীতির পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি সন্ত্রাসবাদ দমন ও ৬০ দিনের জরুরি অবস্থা জারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে ৫৭ বছর বয়সী রবার্তো সানচেজ দারিদ্র্য দূরীকরণ, পুলিশ সংস্কার এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সাবেক বামপন্থী প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিয়োর সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পেরু গত এক দশকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে গেছে এবং দেশটি এরই মধ্যে নয়জন রাষ্ট্রপ্রধান দেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ফলাফল দেশটির গভীর রাজনৈতিক বিভাজনকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক পাওলো ভিলকা বলেন, “এই ফলাফল পেরুর বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করছে। যে-ই জিতুক, দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ তার বিরোধিতা করবে।”
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে তাই দেশজুড়ে উদ্বেগ ও অপেক্ষার প্রহর অব্যাহত রয়েছে।
















