আগামী ফুটবল বিশ্বকাপে চরম গরম ও প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, টুর্নামেন্টের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ম্যাচ অত্যন্ত গরম আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত হতে পারে, যা খেলোয়াড় ও দর্শক—উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে।
সম্প্রতি অনুশীলনের সময় কয়েকটি দলের খেলোয়াড়দের তীব্র গরমে কষ্ট করতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে অনেক খেলোয়াড়কে শরীরে পানি ঢেলে ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ বরফযুক্ত বিশেষ গলার কলার ব্যবহার করেছেন।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এবারের আসর ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বিশ্বকাপে পরিণত হতে পারে। কয়েকটি ভেন্যুতে দিনের বেলায় তাপমাত্রা গড়ে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তাপমাত্রাই নয়, আর্দ্রতা, সূর্যের তাপ এবং বাতাসের গতিও খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। এতে শরীরের স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবং ঘামের বাষ্পীভবন কমে যাওয়ায় ক্লান্তি দ্রুত বাড়বে।
ক্রীড়া বিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যাওয়ায় পানিশূন্যতা, পেশিতে টান এবং দ্রুত অবসাদ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় উচ্চ তাপমাত্রায় খেললে পারফরম্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, পেশাদার ফুটবলাররা বিভিন্ন আবহাওয়ায় খেলার অভিজ্ঞতা রাখেন এবং তাদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়। অনুশীলন, শারীরিক অভিযোজন এবং চিকিৎসা সহায়তার মাধ্যমে গরমের প্রভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
উষ্ণ অঞ্চলের খেলোয়াড়দের কিছুটা সুবিধা থাকতে পারে বলে মনে করা হলেও, যথাযথ প্রস্তুতি থাকলে শীতল আবহাওয়ার দেশের দলগুলোর জন্যও পার্থক্য কমে আসবে।
খেলোয়াড় ও দর্শকদের সুরক্ষায় আয়োজক কর্তৃপক্ষ কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি অর্ধে তিন মিনিটের পানি বিরতি, শীতলীকরণ সুবিধা, উন্নত চিকিৎসা প্রস্তুতি এবং বাস্তব সময়ের আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কিছু ম্যাচের সূচিও পরিবর্তন করে দিনের সবচেয়ে গরম সময় এড়িয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বড় ক্রীড়া আসর আয়োজনের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে।
















