লেবাননের রাজধানী বৈরুতের উপশহরে ইসরায়েলি হামলার জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর নিজেদের সামরিক নীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, এখন থেকে শুধু হুমকির প্রতিক্রিয়া নয়, প্রয়োজন হলে আগাম উদ্যোগ নিয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করবে তেহরান।
রোববার রাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর আগে লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান।
ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল লেবাননের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কমান্ড কেন্দ্র। হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইরান পশ্চিমাঞ্চলসহ একাধিক শহর থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ‘নাসর’ বা বিজয় নামের অভিযানের মাধ্যমে তারা সতর্কবার্তা বাস্তবায়ন করেছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরান ও তার মিত্ররা কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
রাষ্ট্রমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ও বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি বড় পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা, যা দেশটির শিল্প খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এবং কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী একটি তেল শোধনাগারে হামলার দাবি করেছে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, ভবিষ্যতে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের জ্বালানি অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলপথেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো শত্রুপক্ষের সামরিক জাহাজ প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও ইরান দ্রুত যুদ্ধবিরতির দিকে এগোতে চায়। তবে ইরানের বন্দর অবরোধ বহাল থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তেহরানে সোমবার স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেলেও নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানীর অনেক বাসিন্দা নিয়মিত কাজ চালিয়ে গেলেও পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছেন।
ইরানের নীতিনির্ধারক মহল এই হামলাকে কেবল সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং নতুন প্রতিরক্ষা নীতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় এখন থেকে আরও সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক ভূমিকা নেবে তেহরান।
















