মুহাম্মদ আলীর মৃত্যুর এক দশক পূর্তিতে তাঁকে স্মরণ করছে তাঁর জন্মশহর। কিংবদন্তি এই মুষ্টিযোদ্ধার উত্তরাধিকার শুধু বিশ্ব শিরোপা বা অলিম্পিক স্বর্ণপদকে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানবসেবা ও সহমর্মিতার বার্তাই তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর স্ত্রী লনি আলী।
দীর্ঘদিন পারকিনসন রোগের সঙ্গে লড়াই শেষে ২০১৬ সালের ৩ জুন মারা যান মুহাম্মদ আলী। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এবার ‘সহমর্মিতা দিবস’ পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে সেবামূলক ও মানবিক কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্র।
লনি আলী বলেন, মুহাম্মদ আলী বিশ্বাস করতেন, অন্যের সেবা করাই পৃথিবীতে থাকার মূল্য। তিনি প্রতিদিন মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও মানবিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতেন, বিশেষ করে যাঁরা কষ্টে ছিলেন তাঁদের পাশে দাঁড়াতেন।
সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে মুহাম্মদ আলী তিনবারের বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন ও অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী হন। খেলাধুলার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী কণ্ঠে পরিণত হন।
লনি আলীর আশা, সহমর্মিতা দিবস ভবিষ্যতে নিয়মিত উদ্যোগে পরিণত হবে এবং মানুষকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে আরও উদ্বুদ্ধ করবে। তাঁর মতে, সমাজে বিভাজন ও মেরুকরণ বাড়ছে, ফলে মানুষ একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মানবিক মূল্যবোধকে সামনে আনা জরুরি।
তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনো জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ সীমিত করার পরিবর্তে তাঁদের ক্ষমতায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
মুহাম্মদ আলীর মৃত্যুর সময় তাঁর জন্মশহরে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল, সেটি এখনো তাঁকে আশাবাদী করে বলে জানান লনি আলী।
মৃত্যুর এক দশক পরও মুহাম্মদ আলীর সাহস, বিশ্বাস, মানবিকতা ও সেবার আদর্শ বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে সমানভাবে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
















