চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো মেটার এআই স্টার্টআপ ম্যানুস অধিগ্রহণের প্রস্তাব আটকে দিয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ঘোষিত এই চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ২০০ কোটি ডলার। মেটা জানিয়েছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে ম্যানুসের উন্নত এআই এজেন্ট প্রযুক্তি তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন এই চুক্তিতে বিদেশি বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসতে নির্দেশ দিয়েছে।
মেটার এক মুখপাত্র বলেন, এই লেনদেন সম্পূর্ণভাবে প্রযোজ্য আইন মেনে করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি তদন্তের একটি উপযুক্ত সমাধান হবে।
এই সিদ্ধান্তের আগে কয়েক মাস ধরে চীনা কর্তৃপক্ষ মেটার ম্যানুস অধিগ্রহণ নিয়ে গভীর পর্যালোচনা চালাচ্ছিল।
ম্যানুস নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী এআই কোম্পানিগুলোর থেকে আলাদা হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, তারা এমন সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট তৈরি করেছে, যা ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেই পরিকল্পনা করে এবং কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
বিশ্লেষকরা শুরুতে এই চুক্তিকে মেটার জন্য স্বাভাবিক ও কৌশলগতভাবে উপযুক্ত বলেছিলেন, বিশেষ করে মার্ক জাকারবার্গের নেতৃত্বে কোম্পানির এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে।
বর্তমানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক হলেও ম্যানুস মূলত চীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ফলে এটি চীনের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় পড়ে। চীনে প্রযুক্তি রপ্তানি বা বিদেশি কোম্পানির কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।
এ ধরনের বিধিনিষেধের কারণেই আগে বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে চালু রাখতে চুক্তির জন্যও বেইজিংয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়েছিল।
এদিকে গত মার্চে ম্যানুসের দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতাকে চুক্তি পর্যালোচনার সময় দেশ ছাড়তে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ম্যানুসের দল এখন মেটার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং তাদের সেবা উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।
তবে এই অধিগ্রহণ বাতিল করতে হলে মেটার জন্য তা জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা মার্কিন এআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, কারণ বিদেশি বিশেষ করে চীনভিত্তিক সংস্থাগুলো প্রযুক্তি নকল করছে বলে তাদের আশঙ্কা।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর অন্যায্য দমন চালানোর অভিযোগ তুলেছেন এবং বলেছেন, চীন এখন শুধু বিশ্বের কারখানা নয়, বরং উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবেও উঠে আসছে।
















