গর্ভাবস্থায় দেওয়া একটি টিকা নবজাতকদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই টিকার কারণে আরএসভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার ৮০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
আরএসভি নামে পরিচিত একটি ভাইরাস জীবনের প্রথম কয়েক মাসে অনেক শিশুকে আক্রান্ত করে। এতে শিশুদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং খাওয়াতে সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিবছর যুক্তরাজ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০ হাজারের বেশি শিশু গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়।
২০২৪ সাল থেকে গর্ভবতী নারীদের ২৮ সপ্তাহ থেকে এই টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়, যাতে মায়ের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তা প্লাসেন্টার মাধ্যমে শিশুর শরীরে পৌঁছে যায়। ফলে জন্মের পর থেকেই শিশুরা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা পায়।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের অন্তত চার সপ্তাহ আগে টিকা নিলে শিশুর সুরক্ষা প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর হয়। তবে দেরিতে টিকা নিলেও কিছু সুরক্ষা পাওয়া যায়। এমনকি জন্মের দুই সপ্তাহ আগে টিকা নিলেও তা আগেভাগে জন্ম নেওয়া শিশুদের কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।
গবেষণাটি ইংল্যান্ডে সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত জন্ম নেওয়া প্রায় তিন লাখ শিশুর ওপর পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, যেসব শিশুর মায়েরা টিকা নেননি, তাদের মধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার বেশি ছিল।
চিকিৎসকরা বলছেন, আরএসভি সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুদের শ্বাস নিতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়, যা অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত ভীতিকর অভিজ্ঞতা। যদিও খুব অল্প সংখ্যক ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি প্রতিরোধযোগ্য।
বিশেষজ্ঞরা গর্ভবতী নারীদের সময়মতো এই টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এটি শীত মৌসুমে নবজাতকদের সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে প্রায় ৬৪ শতাংশ গর্ভবতী নারী এই টিকা নিচ্ছেন, যদিও রাজধানী লন্ডনে এই হার কিছুটা কম।
















