সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা বাড়াতে অনেক ভ্রমণভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা এখন তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানকে তুলে ধরছেন। তবে এই প্রবণতা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু নির্মাতা দেশটিকে “সবচেয়ে বিপজ্জনক” বা “অদ্ভুত” গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরে সেখানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। কেউ কেউ তালেবান সদস্যদের সঙ্গে ছবি তুলছেন বা তাদের আচরণকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছেন, যা সমালোচকদের মতে বাস্তব পরিস্থিতিকে আড়াল করে।
সমালোচকদের অভিযোগ, এসব কনটেন্টে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিশেষ করে নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষিত হচ্ছে। ফলে দর্শকদের কাছে একটি অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর চিত্র পৌঁছাচ্ছে।
গণমাধ্যম নীতিশাস্ত্র বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃশ্যমানতা বাড়ানোর জন্য অনেক সময় কনটেন্ট নির্মাতারা দেশের সৌন্দর্য ও ব্যতিক্রমী দিকগুলোই বেশি তুলে ধরেন। এতে করে কঠিন বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যায়, যা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
তবে কিছু নির্মাতা দাবি করেন, তারা শুধু নেতিবাচক নয়, দেশের সংস্কৃতি, মানুষ ও দৈনন্দিন জীবনও তুলে ধরতে চান। তাদের মতে, একটি দেশের সবকিছুই রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের কনটেন্টের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা জরুরি। সঠিক প্রেক্ষাপট ও তথ্য ছাড়া কোনো দেশের চিত্র তুলে ধরলে তা ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে এবং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে, তালেবান শাসিত আফগানিস্তান নিয়ে কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে স্বাধীনতা থাকলেও, তা কতটা দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ হচ্ছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
















