নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; জুলাই শহীদদের বীরত্বগাথা ও অজানা ইতিহাস সংরক্ষণে বিশেষ অগ্রাধিকার
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অজানা ইতিহাস ও স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং গবেষণায় নতুন গতি আনতে বড় ধরনের আর্থিক অনুদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ৪ মার্চ এ-সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে, যেখানে একক গবেষক বা গবেষণা দলকে গবেষণার বিষয় ও পরিসরের ওপর ভিত্তি করে ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, শহীদ ও আহতদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং এই বিপ্লবের চেতনা নিয়ে গবেষণার সুযোগ রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (উন্নয়ন) আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি জুলাইয়ের বীরত্বগাথা নিয়েও মন্ত্রণালয় কাজ করছে বিধায় এই গবেষণায় জুলাই অভ্যুত্থানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, মোট তিনটি ক্যাটাগরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পিএইচডি গবেষক, স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং অভিজ্ঞ একক ব্যক্তিরা এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ‘ক’ শ্রেণিতে দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার জন্য ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে যার মেয়াদ হবে এক বছর। ‘খ’ শ্রেণিতে একক গবেষণায় ৯ মাসের জন্য ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং ‘গ’ শ্রেণিতে ৬ মাসের একক গবেষণার জন্য ৫ লাখ টাকা অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে। গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, শরণার্থী জীবন ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও শহীদদের পুনর্বাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এই গবেষণার জন্য প্রস্তাব জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এই গবেষণা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান করা হবে এবং গবেষকদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তাঁদের প্রস্তাব জমা দিতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও রাজস্ব বাজেটের অর্থায়নে এই গবেষণার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই প্রামাণ্য গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেক অমীমাংসিত ও অজানা তথ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত হবে এবং জাতীয় ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ হবে।
















