মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। ইসরায়েল ও ইরান এর মধ্যে চলমান যুদ্ধ পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে।
বুধবার ভোরে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, কারণ ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চালায়। বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও দেশটির জরুরি চিকিৎসা সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরান যুদ্ধের জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই সংঘাত আরও প্রায় এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে।
অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আল খারজ এলাকায় আকাশে উড়ে আসা দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
একই সময় কুয়েত–এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি শত্রু ড্রোন ও আকাশযান ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করেছে, ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনায় হামলা করা হয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কারাজ ও ইসফাহান উল্লেখযোগ্য।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
এদিকে ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের স্থলবাহিনী সরাসরি অভিযানে অংশ নিয়েছে এবং প্রায় ২৩০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করেও নৌ অভিযান চালানোর দাবি করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
















