যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি নতুন কোনো নেতা ক্ষমতায় এসে আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নেয়।
হোয়াইট হাউসে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস–এর সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সামরিক দিক থেকে বড় কোনো উদ্বেগ নেই, তবে যদি নতুন নেতৃত্ব আগের মতোই নীতিতে চলে, তাহলে তা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হতে পারে। তার ভাষায়, কয়েক বছর পর যদি দেখা যায় নতুন নেতৃত্ব আগের মতোই অবস্থান নিয়েছে, তাহলে সামরিক অভিযানের লক্ষ্য পূরণ হবে না।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে হতাহত হয়েছে আরও অনেকে, যার মধ্যে কয়েকজন মার্কিন সেনাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন হামলার পক্ষে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সরকারকে হুমকি হিসেবে দেখেই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি ইরানের বিরোধী শক্তিগুলোকেও সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, এই যুদ্ধ সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে শুরু করা হয়নি।
ট্রাম্প এ সময় ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের ভবিষ্যৎ সরকার গঠনে তিনি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা–এর সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে একটি মডেল হিসেবে দেখছেন।
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। পরে দেশটির উপপ্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, সেই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিপুল পরিমাণ তেল উত্তোলনের সুযোগ পেয়েছে এবং পরিস্থিতি “নিরবচ্ছিন্নভাবে” চলছে।
তবে ইরানের ক্ষেত্রে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। ট্রাম্প বলেন, বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে যাদের কথা ভাবা হয়েছিল তাদের অনেকেই সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছেন।
এদিকে ইরানের শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি নিজেকে সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে তুলে ধরলেও ট্রাম্প তার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি।
তিনি বলেন, কিছু মানুষ পাহলভিকে সমর্থন করলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু ভাবেনি। তার মতে, ইরানের ভেতর থেকেই জনপ্রিয় ও মধ্যপন্থী কোনো ব্যক্তিকে নেতৃত্বে আসা বেশি উপযুক্ত হতে পারে।
















