মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এর ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজার উদ্যোগ শুরু করেছে সরকার।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানির প্রধান দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
কেন হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন এই পথ দিয়ে হয়।
এই পথ দিয়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান উৎপাদক দেশগুলো—
- সৌদি আরব
- কাতার
- কুয়েত
- ইরাক
- সংযুক্ত আরব আমিরাত
বাংলাদেশের বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই অঞ্চল থেকেই আসে। তাই প্রণালি বন্ধ হলে সরাসরি প্রভাব পড়ে জ্বালানি সরবরাহে।
বাংলাদেশে জ্বালানির মজুত কতদিন চলবে
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের জ্বালানি মজুত কয়েক মাসের জন্য যথেষ্ট।
বর্তমান মজুতের আনুমানিক হিসাব—
- ডিজেল: প্রায় ১৫ দিন
- কেরোসিন: প্রায় ১০০ দিন
- ফার্নেস তেল: প্রায় ৯০ দিন
- অকটেন: প্রায় ২০–২৫ দিন
কর্তৃপক্ষ বলছে, আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ বাংলাদেশে আসছে, যা মজুত বাড়াবে।
গ্যাস আমদানিতে অনিশ্চয়তা
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির দায়িত্বে থাকা পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, নির্ধারিত নয়টি এলএনজি চালানের মধ্যে সাতটি ইতোমধ্যে প্রণালি অতিক্রম করেছে। বাকি দুটি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
প্রয়োজনে বিকল্প উৎস হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, অ্যাঙ্গোলা বা মালয়েশিয়া থেকে সরবরাহ আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে দাম দ্রুত বাড়তে পারে।
এলপিজি খাতেও ঝুঁকি
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন এলপিজি ব্যবহার হয়। এর প্রায় ৭০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং বেশিরভাগ চালান হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে এই খাতেও চাপ তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতির জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বড় সংকটের সম্ভাবনা কম। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থির হয়ে পড়বে এবং তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।
তাদের মতে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় কৌশলগত জ্বালানি মজুত তৈরি করা জরুরি।
















