দাহিয়েহ এলাকায় বিমান হামলা; জোরপূর্বক উচ্ছেদের নোটিশে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি
ইসরায়েল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন এই ফ্রন্টে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে।
মঙ্গলবার বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর দাহিয়েহর হারেত হ্রেইক এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা হয়। এর আগে দক্ষিণ প্রান্তেও অন্তত দুটি হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে জানায়, তারা “হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রভাণ্ডার” লক্ষ্য করে আঘাত হানছে।
ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ৫৯টি এলাকায় জোরপূর্বক উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছে, যার মধ্যে দাহিয়েহর একাধিক পাড়া রয়েছে। এতে ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহু স্কুল বন্ধ করে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
হিজবুল্লাহ জানায়, তারা ভোরে উত্তর ইসরায়েলের রামাত দাভিদ বিমানঘাঁটির রাডার ও নিয়ন্ত্রণকক্ষ লক্ষ্য করে “ড্রোনের ঝাঁক” পাঠিয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ।
সোমবার বৈরুতের উপশহর ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫২ জন নিহত এবং ১৫৪ জন আহত হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এর আগে হিজবুল্লাহ হাইফার একটি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।
লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর “সামরিক কর্মকাণ্ড”কে অবৈধ ঘোষণা করে নিরাপত্তা বাহিনীকে দেশীয় ভূখণ্ড থেকে কোনো হামলা ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এ সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করে বলেছে, যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের অধিকার হলেও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মুখে তারা আত্মরক্ষার পথ বেছে নিয়েছে।
















