জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী-প্রত্যাশী তারেক রহমান। শনিবার নির্বাচনের পর প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বিজয় উৎসর্গ করেন গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগী মানুষদের প্রতি। তার ভাষায়, জাতীয় ঐক্যই সমষ্টিগত শক্তি, আর বিভক্তি দুর্বলতা ডেকে আনে।
নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ করেছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৯ আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ২১২টি আসন। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।
যুব আন্দোলনের নেতাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ৬টিতে জয় পেয়েছে। এতে আন্দোলনের জনসমর্থনকে ভোটে রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই বিপুল বিজয় দেশকে স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। তিনি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতির কথাও জানান।
জামায়াতে ইসলামী প্রাথমিকভাবে ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুললেও পরে সামগ্রিক ফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেন, তারা আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে গঠনমূলক ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিএনপি, তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি জোরদারে কাজ করতে আগ্রহী।
১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে নিহত হন। মা খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনী বিজয়ের পর তিনি বলেন, এই জয় গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের এবং বাংলাদেশের।
















