যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ আরও বেড়েছে। জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারওয়ার প্রকাশ্যে তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার এক বিবৃতিতে সারওয়ার বলেন, ডাউনিং স্ট্রিটে চলমান এই বিভ্রান্তির অবসান জরুরি এবং নেতৃত্ব পরিবর্তন প্রয়োজন। তার মন্তব্যের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদত্যাগ ঘটে।
স্টারমারের যোগাযোগবিষয়ক প্রধান টিম অ্যালান সোমবার পদত্যাগ করেন। তিনি বলেন, নতুন করে ডাউনিং স্ট্রিটের দল গঠনের সুযোগ দিতে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। এর এক দিন আগেই প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেন।
এপস্টেইন কেলেঙ্কারির প্রেক্ষাপটে স্টারমারের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয় মূলত পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কারণে। ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার তথ্য আগে থেকেই জানা ছিল। এই নিয়োগের সিদ্ধান্তকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকেরা।
পদত্যাগের দাবির মধ্যেও স্টারমার নিজ অবস্থানে অনড় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজনীতি যে ভালো কিছুর শক্তি হতে পারে, তা প্রমাণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে এবং সরকার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেশ পরিবর্তনের কাজ চালিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রও স্পষ্ট করেছেন, স্টারমারের পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং তিনি সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে মনোযোগী আছেন।
তবে সরকারের ভেতর থেকেই স্টারমার কিছু সমর্থন পাচ্ছেন। উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, ব্রিটেন পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে যেন কিছুই তাদের বিচ্যুত না করে এবং এই কাজে তারা প্রধানমন্ত্রীর পাশে আছেন। অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, স্টারমারের নেতৃত্বেই দেশ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
স্টারমারের সাবেক উপপ্রধান ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত অ্যাঞ্জেলা রেনারও তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। তিনি সহকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের মূল্যবোধ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক মন্তব্য করেছেন, স্টারমার তার সরকার চালাতে অক্ষম। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে লেবার পার্টির অন্য কাউকে দায়িত্ব নিতে হবে অথবা নতুন নির্বাচন দেওয়া উচিত।
এদিকে পিটার ম্যান্ডেলসনের নাম এপস্টেইন তদন্ত–সংক্রান্ত নথিতে উঠে আসার পর থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। স্টারমার তাকে গত সেপ্টেম্বর বরখাস্ত করেন। এরপর তিনি লেবার পার্টি ও হাউস অব লর্ডস থেকেও পদত্যাগ করেন। তাকে বরখাস্তের সময় দেওয়া ক্ষতিপূরণ পর্যালোচনা করছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর।
এই পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে স্টারমারের। ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ বিষয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সেখানে আরও জোরালোভাবে উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















