দাপ্তরিক ইমেইল ব্যবহারের অভিযোগে আইটি বিভাগে তোড়জোড়; নারী সমাজকে নিয়ে দেওয়া পোস্টে আমিরের ক্ষমা প্রার্থনা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বঙ্গভবন কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একজন সহকারী প্রোগ্রামারের দাপ্তরিক ইমেইল ব্যবহার করে এই হ্যাকিং করা হয়েছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করার পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়। বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে পার্শ্ববর্তী একটি দেশ থেকে ওই সরকারি ইমেইল ‘ক্লোন’ বা ‘ব্যবহার’ করে এই অপকর্ম করার আলামত পাওয়া গেছে। হ্যাক করা অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে একটি অত্যন্ত আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তবে জামায়াত আমির এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য মা-বোনদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং এটিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে দল ও তাকে হেয় করার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রবিবার রাজধানীর মগবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত হ্যাকিংয়ের বিস্তারিত তথ্যচিত্র তুলে ধরে। দলটির দাবি, আমিরের অ্যাকাউন্টটি এমন সময়ে হ্যাক করা হয়েছে যখন তিনি নির্বাচনী জনসভায় সরাসরি ভাষণ দিচ্ছিলেন।
হ্যাকিং ও বঙ্গভবন কানেকশন
জামায়াতের অভিযোগের পর বঙ্গভবনের আইটি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সক্রিয় হয়েছে:
- তদন্তের নির্দেশ: রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে অভিযোগটি পর্যালোচনার জন্য তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- বিদেশি যোগসূত্র: বঙ্গভবনের একটি সূত্র দাবি করেছে, প্রাথমিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশের কোনো এক অঞ্চল থেকে সহকারী প্রোগ্রামারের সরকারি ইমেইল আইডিটি ব্যবহার করে আমিরের ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
জামায়াত আমিরের ক্ষমা ও প্রতিক্রিয়া
শেরপুরে এক নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন:
১. আন্তরিক ক্ষমা: “হ্যাক হওয়া পোস্টের কারণে যদি কোনো মা-বোন কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য আমি ব্যথিত এবং আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।”
২. ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: তিনি অভিযোগ করেন, যারা প্রকৃত অর্থে নারীদের সম্মান করে না, তারাই এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা নিয়ে রাজপথে মিছিল করে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
৩. প্রমাণ পেশ: জামায়াত দেখিয়েছে, শনিবার বিকাল ৪টা ৩৭ মিনিটে যখন আপত্তিকর পোস্টটি দেওয়া হয়, তখন আমির কেরানীগঞ্জে জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন, যার লাইভ ভিডিও প্রমাণ হিসেবে রয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক উত্তাপ
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন:
- জিডি ও মামলা: এই সাইবার হামলার বিষয়ে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
- নির্বাচনী প্রভাব: নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জামায়াত ও আমিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এই ‘জঘন্য’ কাজ করা হয়েছে বলে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি মনে করছে।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটবদ্ধ প্রচারণায় থাকা জামায়াত আমিরের ওপর এ ধরনের সাইবার হামলাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছেন আইটি বিশেষজ্ঞরা।
















