ইউক্রেনে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত এক কেনীয় যুবকের মরদেহ দেশে ফেরানো ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে সরকারের সহায়তা চেয়েছে তার পরিবার।
নিহত যুবকের নাম ক্লিনটন ন্যাপারা মোগেসা। বয়স ২৯ বছর। তিনি ২০২৪ সালে কাজের উদ্দেশ্যে কেনিয়া থেকে কাতারে যান। পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান যে তিনি রাশিয়ায় যাচ্ছেন।
শনিবার ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ জানায়, পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক এলাকায় একটি উচ্চ প্রাণহানিসম্পন্ন অভিযানে তিনি নিহত হন। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, কাতারে অবস্থানকালে তাকে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা আরও জানায়, রুশ বাহিনী তার মরদেহ সরিয়ে নেয়নি এবং তার কাছে আরও দুই কেনীয় নাগরিকের পাসপোর্ট পাওয়া গেছে।
এই ঘটনার ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কেনীয় নাগরিকদের নিয়োগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মোগেসার চাচাতো ভাই ভিনসেন্ট ওকেমওয়া বলেন, মৃত্যুর খবর প্রথমে তারা বিশ্বাসই করতে পারেননি। তিনি জানান, প্রথমে রাশিয়ায় থাকা এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিষয়টি মোগেসার ভাইয়ের কাছে পৌঁছায়, পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
তিনি বলেন, কাতার থেকে রাশিয়ায় যাওয়ার বিষয়টি মোগেসা পরিবারকে জানিয়েছিলেন এবং সেখানে তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণ চলাকালে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তবে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। সর্বশেষ ২৮ অক্টোবর তাদের কথা হয়েছিল।
মোগেসার মৃত্যুর পর তার পরিবার চরম দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে বলে জানান ওকেমওয়া। তিনি বলেন, মোগেসার বাবা ছেলের বিদেশযাত্রার খরচ জোগাতে জমি বিক্রি করেছিলেন। পরিবারের ভালো ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসা ছিলেন তিনি।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি খুবই খারাপ, পরিবারের সব আশা ভেঙে গেছে।
মোগেসার ভাই জোয়েল মোগেরে স্থানীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, তার ভাই ছিলেন পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান এবং উপার্জনকারী সদস্য।
মোগেসার মা মেলেন মোরআ বলেন, তিনি ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং তার ছেলে নিয়মিত ওষুধের খরচ দিতেন ও দেখাশোনা করতেন। এখন তিনি কী করবেন বুঝতে পারছেন না বলে জানান। তিনি সরকারের কাছে সহায়তার আবেদন করেন।
গত মাসে কেনিয়া সরকার জানায়, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে আটকে পড়া ১৮ জন কেনীয় নাগরিককে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন ভোকাল আফ্রিকা জানিয়েছে, তারা অন্তত ১৮ জন কেনীয় নাগরিকের মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনা অনুসরণ করছে। সংগঠনটির মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
কেনিয়া সরকার এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে নিহত কোনো কেনীয় নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
গত বছরের নভেম্বরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রায় ২০০ কেনীয় নাগরিক রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করছে এবং নিয়োগ চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকেই তরুণদের লাভজনক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার পর যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আফ্রিকার ৩৬টি দেশ থেকে এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অতীতে ইউক্রেনও বিদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে আফ্রিকানদের, নিজেদের পক্ষে যুদ্ধে টানার চেষ্টার অভিযোগের মুখে পড়েছে।
ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই সতর্ক করে আসছে যে, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শত্রুপক্ষের যোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং আত্মসমর্পণই নিরাপদ পথ।
শনিবার ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা বিদেশি নাগরিকদের রাশিয়ায় ভ্রমণ বা সেখানে কাজ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই প্রাণঘাতী অভিযানে পাঠানোর গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে এবং বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
















