যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক হাইতিয়ান অভিবাসীদের বহিষ্কার সুরক্ষা তুলে নেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদার আওতায় থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ হাইতিয়ান অভিবাসী আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক একদিন আগে বিচারক আনা রেয়েস রায় দেন যে, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানের অবস্থানের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য ও আইনি ভিত্তি নেই।
রায়ে বিচারক বলেন, আবেদনকারীরা অভিযোগ করেছেন যে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব আগেভাগেই সুরক্ষা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তা অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসীদের প্রতি বৈরিতার ফল। বিচারকের মতে, এই অভিযোগ সত্য হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করে এবং অতীতে ডেমোক্র্যাট সরকারগুলো এটি অপব্যবহার ও অযৌক্তিকভাবে দীর্ঘায়িত করেছে।
এই মর্যাদা সাধারণত সেই সব দেশের নাগরিকদের বহিষ্কার থেকে রক্ষা করে, যেসব দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সশস্ত্র সংঘাত বা বড় ধরনের সংকটে অনিরাপদ বলে বিবেচিত।
৮৩ পৃষ্ঠার কড়া ভাষার রায়ে বিচারক মামলাটি খারিজের আবেদন নাকচ করে দেন এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহিষ্কার সুরক্ষা বহাল রাখার নির্দেশ দেন। মামলার আবেদনকারী ছিলেন পাঁচজন হাইতিয়ান অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদাধারী।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, এই অভিবাসীরা সহিংস অপরাধী বা সমাজের বোঝা নন, বরং তাদের সম্পর্কে যে নেতিবাচক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতিকে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদার জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর একাধিকবার এই মর্যাদার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, সর্বশেষ ২০২১ সালে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, হাইতিয়ানদের জন্য অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা কার্যত স্থায়ী বসবাসে পরিণত হয়েছে, যা কর্মসূচিটি চালুর সময় কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই প্রশাসন আফগানিস্তান, ইথিওপিয়া, হন্ডুরাস, মিয়ানমার, নেপাল, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া ও ভেনেজুয়েলাসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের জন্য থাকা অধিকাংশ অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচি বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কার্যকর হলে লক্ষাধিক মানুষ বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়বে।
এদিকে, প্রায় আড়াই হাজার সোমালি অভিবাসীর বহিষ্কার সুরক্ষাও তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ মার্চ থেকে তারা কাজের অনুমতি ও বৈধ অবস্থান হারাবেন, ফলে বহিষ্কারের জন্য তারা উপযুক্ত বিবেচিত হবেন।
















