সিআইডির প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থতা; আদালত থেকে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২৫ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলাম এই আদেশ দেন।
২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সাব-ইন্সপেক্টর রোকনুজ্জামান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী তদন্তের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে ‘নারাজি’ পিটিশন দাখিল করলে আদালত ডিবি পুলিশের বদলে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও মূল আসামিদের তথ্য:
- হত্যাকাণ্ডের বিবরণ: গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় রিকশায় যাতায়াতকালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
- চার্জশিট ও আসামি: গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছিল। এর মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন।
- পলাতক আসামি: প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনসহ ৬ জন পলাতক রয়েছেন। এই তালিকায় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও কথিত মাস্টারমাইন্ড তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিও রয়েছেন।
হাদি হত্যা মামলার তদন্তের বর্তমান চিত্র:
| ক্যাটাগরি | বিবরণ ও সংখ্যা |
| মোট আসামি | ১৭ জন। |
| কারাগারে আটক | ১১ জন (ফয়সালের মা-বাবা ও স্ত্রীসহ)। |
| পলাতক | ৬ জন (ফয়সাল, আলমগীর, কাউন্সিলর বাপ্পি প্রমুখ)। |
| জব্দকৃত অর্থ | তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার একটি সই করা চেক জব্দ করা হয়েছে। |
| তদন্ত সংস্থা | ডিবি থেকে বর্তমানে সিআইডি-র অধীনে। |
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীর সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে বলে জানানো হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল ষড়যন্ত্রকারীদের শনাক্ত করার দাবি জানানো হচ্ছে।
















