অন্তর্বর্তী সরকার সংসদীয় সংস্কার ও সংলাপে ব্যর্থ, ক্ষুদ্র উগ্র গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হওয়ার অভিযোগ
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কি না—সে বিষয়ে গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংসদীয় সংস্কার, রাজনৈতিক সংলাপ এবং ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে সরকারের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
‘আগামী সরকারের জন্য নির্বাচিত নীতি সুপারিশ ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। অনুষ্ঠানে আগামী সরকারের জন্য ১২টি নীতি বিবৃতি ও একটি প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, নতুন শক্তির কথা বলে সরকার শেষ পর্যন্ত একটি ক্ষুদ্র ও উগ্র গোষ্ঠীর কাছে অনেক ক্ষেত্রে জিম্মি হয়ে গেছে। “ওনারা নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পারেননি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—ওনারা কি নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনটাও পরিচালনা করতে পারবেন?”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিবিদরা আত্মগোপনে গেলেও কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও আমলাতন্ত্র দ্রুত পুনরুত্থান ঘটিয়েছে। তাঁর মতে, পুরনো বন্দোবস্তের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হচ্ছে আমলাতন্ত্র, আর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারই তাদের ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছে।
সংলাপে অংশীজনদের মতামত যথাযথভাবে না নেওয়াকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, এর দুটি ফল হয়েছে। প্রথমত, যারা নতুন বন্দোবস্তের কারিগর হতে চেয়েছিল, তারা শেষ পর্যন্ত পুরনো বন্দোবস্তের অংশ হয়ে গেছে এবং ব্যয়বহুল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। দ্বিতীয়ত, পুরনো বন্দোবস্তের ধারক ও বাহক কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর উত্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান আগামী সরকারের জন্য ১২টি নীতি বিবৃতি তুলে ধরেন এবং প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান।
এ সময় নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য আসিফ ইব্রাহিম, রাশেদা কে চৌধুরী, শাহীন আনাম এবং সুলতানা কামালসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
















