মিয়ানমারের সামরিক কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন ঘিরে কারেন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে ব্যাপক সেনা মোতায়েনের মধ্যেও ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম, বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
কারেন রাজ্যের হ্লাইংবুয়ে ও হপাপুন টাউনশিপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশেষভাবে কঠোর করা হয়। হ্লাইংবুয়ে টাউনশিপের হ্লাইংবুয়ে, পাইংকিয়ন ও শান ইয়োয়া থিত শহর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামেই মূলত ভোটগ্রহণ সীমাবদ্ধ রাখা হয়। তবে শান ইয়োয়া থিত এলাকা পুরোপুরি Karen National Union–এর নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
বাকি কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জান্তা সেনা, কারেন ন্যাশনাল আর্মি ও পিউ স’ থি মিলিশিয়াদের যৌথভাবে মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় এক তরুণ বাসিন্দা জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক মাত্রায় সেনা উপস্থিতি দেখা গেছে এবং আগের নির্বাচনের তুলনায় ভোটার সংখ্যা ছিল অনেক কম। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় প্রশাসন গাড়িতে মাইক ব্যবহার করে ভোট দিতে আহ্বান জানালেও তাতে খুব একটা সাড়া মেলেনি।
হ্লাইংবুয়ে ও পাইংকিয়নে মোট ৪৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে অন্তত ১০টি গ্রাম এলাকায় ভোটগ্রহণ বাতিল করতে হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। পাইংকিয়নের বাসিন্দাদের মতে, সম্পূর্ণ সশস্ত্র সেনাদের উপস্থিতি মানুষকে ভোট দিতে উৎসাহিত করার বদলে ভয়ভীতি সৃষ্টি করেছে।
এক বাসিন্দা বলেন, মানুষ প্রায় পুরোপুরি অনাগ্রহী। একসঙ্গে একজন বা দুজন ভোটারই কেবল কেন্দ্রে আসছেন। অনেকেই ভয়ের কারণে ভোটকেন্দ্রের কাছেও যাচ্ছেন না, কেউ কেউ রাতে নিজ ঘরে থাকতেও আতঙ্ক বোধ করছেন।
পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হপাপুন টাউনশিপে। ২০২৪ সালের শুরুতে Karen National Union হপাপুন শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানে নির্বাচন আয়োজন অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে নির্বাচন কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া হয় কামাউং শহরে।
হপাপুন জেলা নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান উ তুন লুইন জানান, বর্তমানে কামাউং শহরের মাত্র চারটি ওয়ার্ড ও দুটি গ্রামাঞ্চলে মোট ১০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানেও ভোটার উপস্থিতি খুবই কম এবং প্রশাসন লাউডস্পিকার ও টহল গাড়ির মাধ্যমে ভোট দিতে চাপ প্রয়োগ করছে।
তবে কারেন রাজ্যজুড়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ভোটার উপস্থিতি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়েই রয়ে গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক অনাস্থাই এই অনাগ্রহের মূল কারণ।
















