জাকার্তা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ও অশ্লীল ছবি তৈরির ঝুঁকির কারণে ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট গ্রকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে গ্রক অ্যাপ্লিকেশনটি বন্ধ করল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার এই রাষ্ট্র।
দেশটির যোগাযোগ ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্মতি ছাড়া যৌন ডিপফেক তৈরি করা মানবাধিকার, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং অনলাইন নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি বলেন, ডিজিটাল পরিসরে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
মন্ত্রী মিউতিয়া হাফিদ এক বিবৃতিতে বলেন, নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে সাময়িকভাবে গ্রক অ্যাপের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এমন এক সময়, যখন গ্রক নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা বাড়ছে। এর একদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গ্রকের ছবি তৈরি ও সম্পাদনার সুবিধা কেবল অর্থপ্রদানকারী ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত করা হয়। সমালোচনার চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গ্রক ব্যবহার করে অনলাইনে থাকা ছবিতে মানুষের পোশাক মুছে ফেলার মতো পরিবর্তন করা যাচ্ছিল, যা নিয়ে বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর জেরে ইলন মাস্ককে জরিমানার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
ইলন মাস্ক দাবি করেছেন, কেউ যদি গ্রক ব্যবহার করে অবৈধ কনটেন্ট তৈরি করে, তাহলে সেটি সরাসরি আপলোড করার মতোই আইনি পরিণতির মুখে পড়তে হবে। তবে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ও প্রযুক্তি অধিকারকর্মীরা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের দপ্তর জানিয়েছে, কেবল অর্থপ্রদানকারী ব্যবহারকারীদের জন্য ফিচার সীমিত করা ভুক্তভোগীদের জন্য অপমানজনক এবং এটি কোনো সমাধান নয়। তাদের মতে, এতে অবৈধ ছবি তৈরির সুবিধাই কেবল প্রিমিয়াম সেবায় পরিণত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতি ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে তারা এক্সের কর্মকর্তাদের তলব করেছে।
প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অনলাইনে অশ্লীল কনটেন্ট প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইন রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাগরিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
















