গণতান্ত্রিক উত্তরণ, দারিদ্র্য–অসমতা ও বৈশ্বিক চাপে কোন পথে অর্থনীতি
নির্বাচন-পরবর্তী গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ অর্থনীতির সামনে সুযোগ যেমন আছে, তেমনি আছে গভীর কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ।
নতুন বছর ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান প্রশ্ন—কীভাবে অনিশ্চয়তা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যের চক্র ভেঙে টেকসই উন্নয়নের পথে এগোনো যাবে। বিশ্লেষক ড. সেলিম জাহান মনে করেন, ২০২৫ সালে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উন্নতি ও ব্যাংক খাতে কিছু সংস্কার হলেও দারিদ্র্য, অসমতা, বেকারত্ব ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা অর্থনীতির বড় অন্তরায় হয়ে আছে।
তার মতে, গত তিন বছরে দারিদ্র্যহার আবার বেড়ে প্রায় ২১ শতাংশে পৌঁছেছে এবং প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। একই সঙ্গে সম্পদের বণ্টনে চরম বৈষম্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে গুণগত সংকট এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের স্থবিরতা অর্থনীতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
ড. সেলিম জাহান সতর্ক করেন, কর্মবিহীন প্রবৃদ্ধি, তরুণদের উচ্চ বেকারত্ব, খেলাপি ঋণের রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি এবং নগরায়ণের চাপ—বিশেষত ঢাকায়—আগামী দিনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট ঘনীভূত করতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্লথ গতি, শুল্কযুদ্ধ, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সুবিধা হারানো এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতও বাংলাদেশ অর্থনীতিতে চাপ বাড়াবে।
এই বাস্তবতায় তিনি উন্নয়নের নতুন দর্শনের ওপর জোর দেন—যেখানে ‘অগ্রগতি’ ও ‘উন্নয়ন’-এর পার্থক্য স্পষ্ট হবে, উন্নয়নের কেন্দ্রে থাকবে মানুষ, সুযোগের সুষম বণ্টন, গণতান্ত্রিক চর্চা ও নৈতিক ভিত্তি। একই সঙ্গে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক–আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি।
বিশ্লেষকের মতে, আগামী নির্বাচিত সরকারকে অর্থনীতির অগ্রাধিকার নির্ধারণ, মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপরেখা প্রণয়ন এবং স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তবেই সমতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক একটি টেকসই অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশ এগোতে পারবে।
















