এবি পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল এনসিপি; আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও পদত্যাগের হিড়িকের মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, কোনো একক সিদ্ধান্তে নয়, বরং দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের গণতান্ত্রিক মতামতের ভিত্তিতেই জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এনসিপির ভেতরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনেই মূলত এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ডা. তাসনিম জারাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেত্রীর পদত্যাগ এবং জামায়াত জোট নিয়ে ওঠা বিতর্কের সরাসরি জবাব দেন নাহিদ ইসলাম।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়
নাহিদ ইসলাম বলেন, “জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এনসিপির একটি সামষ্টিক সিদ্ধান্ত। যেকোনো বড় সিদ্ধান্তে দ্বিমত বা ভিন্নমত থাকতে পারে, তবে আমাদের দলের বেশিরভাগ সদস্য এই জোটের পক্ষে রায় দিয়েছেন। যারা বর্তমানে বিরোধিতা করছেন, আমরা তাদের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করব এবং আশা করি দলের বৃহত্তর স্বার্থে তারা আমাদের সাথেই থাকবেন।”
এবি পার্টির সঙ্গে জোটের অবসান
এতদিন জামায়াত থেকে বেরিয়ে আসা নেতাদের দল ‘এবি পার্টি’র সঙ্গে এনসিপির যে সখ্যতা ছিল, তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এবি পার্টির সাথে আমাদের জোটের মূল লক্ষ্য ছিল এককভাবে নির্বাচন করা। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমরা এখন বৃহত্তর একটি সমঝোতায় প্রবেশ করেছি। ফলে এবি পার্টির সাথে পূর্ববর্তী জোটের কার্যকারিতা আর নেই।”
আসন সমঝোতা ও প্রার্থী নির্বাচন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা চলছে বলে জানান এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি উল্লেখ করেন, বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা এবং জনগণের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও এনসিপির ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপির একটি অংশ জামায়াতের সঙ্গে জোট করাকে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের’ আদর্শিক বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন। তবে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার যে লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছিল, বৃহত্তর জোটের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণ আরও সহজ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকলেও পদত্যাগকারী বা বিরোধীতাকারী পক্ষের কাউকে দেখা যায়নি।
















